‘কত আইটেমের নাম কমু? প্রতিদিন নতুন নতুন আইটেম আইতাছে। এখন পর্যন্ত হাজার বারোশো তো হইবই! বাণিজ্যমেলায় নতুন কী এনেছেন? এর উত্তর এভাবেই দিলেন পুরান ঢাকার মিটফোর্ড ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া। লম্বায় প্রায় ২০০ ফুট আয়তনের দীর্ঘ এক প্যাভিলিয়নে কতশত পদের যে স্টিল পণ্য নিয়ে বসেছেন, তার সঠিক হিসাব দিতে পারলেন না দোকানের অন্য কর্মচারীরাও। এক টিফিন ক্যারিয়ারের মধ্যে ডিজাইন এসেছে ৫০ ধরনের। গ্লাস এসেছে ২০০ পদের। চামচের ডিজাইন ১৫০। এভাবে ছাঁকনি, কড়াই, জগ, হাঁড়ি, পাতিল, রুটি মেকারসহ অসংখ্য ক্রোকারিজ পণ্যের সংখ্যাতীত ডিজাইন। শীতের দুপুরে হালকা রোদ স্টিলের গায়ে পড়ায় ঝকঝকে আয়নার মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পুরো দোকান। দুপুর কী রাত মহিলাদের বেশ ভিড় জমছে সুরুজ মিয়ার দোকানে।
মিরপুরের হোসনে আরা বেগম ঘণ্টাখানেক ধরে ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। একসময় হেসে উঠে বললেন, একটার ভেতর ঢুকলে তার নানা ডিজাইন দেখতেই দিন চলে যাবে। জানা গেল, ভারত, থাইল্যান্ড এবং কামরাঙ্গীরচরে নিজস্ব কারখানায় তৈরি এসব স্টিল পণ্যের ডিজাইন সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ক্রোকারিজ পণ্যের আদলে। দামে সস্তা অথচ টেকসই এসব স্টিল পণ্যের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতা দর্শনার্থীদের।
সুরুজ মিয়া বলেন, মেলা উপলক্ষে তিনি কাশ্মীরের বিখ্যাত হাঁড়ি সেট, ইম্পেরিয়াল হাঁড়ি সেট, অটোমেটেড রুটি মেকার আমদানি করেছেন। তার দোকানে ১৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাত হাজার টাকার দামি জিনিস রয়েছে।
নিউমার্কেটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী রতন মেলা উপলক্ষে জার্মানি, চীন, ভারত থেকে সংগ্রহ করেছেন ওয়াশিং মেশিন, মাল্টি ফাংশন ওভেন, ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, সালাদ কাটার, রুটি মেকার, হ্যান্ডিং জুসার, ইন্ডাকশন ওভেন, ননস্টিক সিরামিক, মিয়াকো ওয়াশিংসহ নানা পদের ক্রোকারিজ পণ্য। দোকানের নাম দিয়েছেন বিখ্যাত ক্রোকারিজ কোম্পানি ডেজনি ইতালির নামে। ১০ শতাংশ ছাড় বাদে প্রতিটি পণ্য বিক্রি করছেন ৮০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি জানান, এখন সবাই দেখে পছন্দ করে যাচ্ছে, পরে কিনতে আসবে। তবে এর মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের চামচ সেট, হটপটের বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। ক্রোকারিজ পণ্যের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান আরএফএল বাণিজ্যমেলায় প্রায় ১৯ ধরনের চুলা নিয়ে এসেছে। যার বিক্রয় মূল্য এক হাজার ৪০০ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। ছাড় দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। এবারের মেলায় আরএফএলের সম্পূর্ণ নতুন কালেকশন হচ্ছে বিভিন্ন রঙের মার্বেল মেলামাইন প্লেট ও বাটি। চোখ জুড়ানো ডিজাইনের হোয়াইট, ব্ল্যাক, গ্রিন মার্বেল মেলামাইনের চাহিদাও তুঙ্গে। প্রতিটি প্লেটের মূল্য ২৭০ টাকা। বাটির মূল্য ৩৭৫ টাকা। আরএফএলের সেলস এক্সিকিউটিভ নাজমুল ইসলাম বলেন, দামে সস্তা এবং দেখতে সুন্দর হওয়ায় মারবেল মেলামাইনের বিক্রি হচ্ছে অনেক। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম স্টিক, ননস্টিকও ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এসব ছাড়াও বাণিজ্যমেলার ক্রোকারিজ স্টলগুলোয় দেশি-বিদেশি নানা আইটেমের পণ্যের সমাহার বসেছে। ফলে অন্যান্য দোকানের তুলনায় ক্রোকারিজ দোকানগুলোয় ভিড়ের পরিমাণও বেশি। মেলার দিন যত বাড়বে, ততই বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।