মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে উঠছে রাষ্ট্রপতির ভাষণ

আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বসবে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে যে ভাষণ দেবেন তার খসড়া অনুমোদন করা হতে পারে। এ সংক্রান্ত ভাষণটির খসড়া মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হবে এ বৈঠক।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেন তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হতে হয়। এই ভাষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ ছাড়াও মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে আরও পাঁচটি এজেন্ডা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ইট ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইনের নীতিগত অনুমোদন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুরক্ষা বিধিমালা, ২০১৫-এর আলোকে প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন। এসব আইন ও বিধির খসড়া গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রীরা কাজ শুরু করলেও কোনো মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়নি। আগামী সোমবার হবে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক।

দেশে ইট প্রস্তুত ও ভাটা নির্মাণের আইন ও বিধিমালা থাকলেও এসব মানা হয় না। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ফসলি জমির পাশেই ইটের ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত ইটভাটা নির্মাণের কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসছে। দেশে বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা ৬ হাজার ৯৩০টি। বছরে দেশে ইটের চাহিদা দেড় হাজার কোটি। এই ইট প্রস্তুত করতে ১২৭ কোটি সিএফটি মাটির দরকার হয়; যার বেশিরভাগই কৃষিজমির উপরিভাগ (টপ সয়েল) থেকে সংগ্রহ করা হয়। ইট প্রস্তুত খাত দেশের গ্রিন হাউস গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস। এ খাতে বছরে ২২ লাখ টন কয়লা ও ১৯ লাখ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়, যা বছরে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইটভাটার জন্য মাটি তুলতে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তা করতে হয় না। খসড়া আইনে ইট তৈরিতে মাটির ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। নদী খনন থেকে উঠে আসা বালু দিয়ে ইটের বিকল্প উপকরণ প্রস্তুত করার কথাও আইনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংহত করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইনের খসড়া করা হয়েছে। সমাজে সবার বিশেষ করে নারী, শিশু, দুর্বল, অনগ্রসর ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করবে সমাজকল্যাণ পরিষদ। সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে সভাপতি করে সমাজকল্যাণ পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদে সহসভাপতি থাকবেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ শতাধিক সদস্য নিয়ে এই কমিটি গঠিত হবে।