সপ্তাহজুড়ে হ্যাশট্যাগ টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ এবং হ্যাশট্যাগ গ্লো আপ চ্যালেঞ্জে কাঁপছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এক দশক আগে দেখতে কী রকম ছিলেন তা প্রকাশ করছেন ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ট্রেন্ডে মানুষ কৌতুকপূর্ণ ও হাস্যকর ছবি ও কথাবার্তা দিয়ে ভরিয়ে তোলে। সেই সঙ্গে মজার মজার পোস্টগুলো ভাইরাল হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবেই নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও পছন্দ-অপছন্দের বিষয়েই মেতে থাকে সবাই। কিন্তু এবারে দেখা গেছে উল্টো ঘটনা।
আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আরব বসন্তের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির দৃশ্য উঠে এসেছে চলমান চ্যালেঞ্জে। এক দশক আগে আরব দেশগুলোর উন্নত ও পরিপাটি শহরের বিপরীতে বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলোর চিত্র ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
২০১১ সালে আরব বসন্তের ধাক্কায় জনগণের বিক্ষোভের মুখে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের স্বৈরশাসকদের পতন ঘটে।
শুরুটা তিউনিসিয়া দিয়ে শুরু হলেও যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে বেঁচে গেছে দেশটি। কিন্তু গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন।
ইসলামি জঙ্গি আইএসের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইরাক আর গৃহযুদ্ধপীড়িত সিরিয়া ও ইয়েমেনের শহরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির হাজার হাজার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর এ চ্যালেঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী।
ল্যাটিন আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টি লিবিয়ার এক দশকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার দিয়েছে। পুঁজিবাদী শক্তির আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের শহরটির বর্তমান কী দশা সেটি উল্লেখ করা হয় তাতে।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের দূত মুনিবা মাযারি ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন সিরিয়ার ছবি। দেশটিতে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও উঠে আসে এতে।
ইয়েমেনের নাগরিক সমাজের পরিচিত ব্যক্তিত্ব নাদওয়া দাওসারি ইয়েমেনের সানা শহরের ছবি দিয়ে দেখান, সৌদি জোটের হামলার আগে শহরটি কী অবস্থায় ছিল, কিন্তু এখন কী অবস্থায় আছে। এরমধ্যে আছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনাও আছে।