‘খালি ১০, হালি ২০; ফুরাইয়া গেল হালি ২০, লইয়া যান হালি ২০’Ñ কারওয়ানবাজারে হাঁকডাক করে এভাবে ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচাকলা বিক্রি করছেন সবজি বিক্রেতা আনোয়ার। তার কাছে গিয়ে হাঁকডাকের কারণ জানতে চাইলে আবারও বললেন, ‘এক পিস ফুলকপি মাত্র ১০ টাকা, এক হালি নিলে ৩৫ টাকা। আর কাঁচাকলার হালি মাত্র ২০ টাকা।’ শুধু আনোয়ার নয়, কারওয়ানবাজারের অনেক সবজি বিক্রেতাই কম দামে সবজি বিক্রি করেছেন গতকাল। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এ সপ্তাহে শীতের সবজিতে ভরপুর কাঁচাবাজার। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, মুলা, বেগুন, টমেটো, গাজরসহ শীতের কোনো সবজির অভাব নেই। বিভিন্ন ধরনের সবজির ব্যাপক সরবরাহে অধিকাংশ সবজির কেজি ২০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে জানা গেছে এ তথ্য।
এদিন দাম বৃদ্ধির তালিকায় ছিল করলা। এক সপ্তাহ আগের মতোই বাজার ও মানভেদে করলা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০-৭০ টাকায়। এরপরই রয়েছে লাউ। বাজার ও মানভেদে লাউ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা পিস। বাজারে কম দামে বিক্রি হয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শালগম, বেগুন, পেঁপে, শিমও। শিম বাজার ও মানভেদে বিক্রি হয়েছে কেজিতে ২০-৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে বেগুনের কেজিও মিলছে ২০-৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এর কেজি ছিল ৩০-৪০ টাকা। শালগম ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি এবং মুলা ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটো ও নতুন আলুর দাম কিছুটা কমেছে। পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০-৩০ টাকা; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩০-৪০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় নতুন আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবজির পাশাপাশি ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজের দাম। আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২-৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে নতুন দেশি পেঁয়াজের দাম। গতকাল ২০-২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। তবে এ সপ্তাহে দাম বেড়ে রসুনের কেজি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা; যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
তবে মসলার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কমেছে আদার দাম। মানভেদে আদা কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৫ থেকে ১২৫ টাকা। কাঁচামরিচের দামেও তেমন কোনো তারতম্য দেখা যায়নি। এদিন এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। এছাড়া পালংশাক ৫ থেকে ১৫ টাকা আঁটি, লালশাক ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্যদিকে লাউশাক পাওয়া গেছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। সরিষাশাক ৫ থেকে ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হয়েছে।
এদিকে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও এখনো ঊর্ধ্বমুখী চালের দর। মালিবাগ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী দিদার হোসেন জানান, গতকাল চালের দাম ছিল আগের মতোই। মিনিকেট ৫২-৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫২-৫৮ কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ভালো মানের গুটি স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা, স্বর্ণা (পাইজাম) ৩৮-৪০ টাকা। সাধারণ নাজিরশাইল ৪২-৪৫ টাকা। পুরান নাজিরশাইল (ভালো মানের) বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৫ টাকা কেজি দরে। চালের দাম না কমার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সুযোগে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়াইছে। নির্বাচনের দুদিন আগে কেজিতে ৪-৫ টাকা বাড়ছে। এখন তারা আর কমাতে চায় না। মিল মালিকরা বলছেন, কৃষকরা দাম পাইবো না। কিন্তু আদৌতে কৃষকরা লাভ পাইবো না। লাভ সব হইবো মিল মালিকগো।’
কয়েক দিন ধরে বাড়তে থাকা ডিমের দামেও কিছুটা কমতি দেখা গেছে। মোহাম্মদপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৩২ টাকা হালি দরে ডিম বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী আকমল হোসেন। তিনি জানান, এক ডজন ডিম বিক্রি করছেন ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। গত সপ্তাহে এ বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।
তবে বাজারে মাছ ও মাংসের দামে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতোই গতকাল রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২২০-২৫০ টাকা কেজিতে। সরপুঁটি ১৮০-২২০, বড় পাবদা ৪৫০-৫০০, চিংড়ি ৪৫০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।