আশুলিয়ার বেরন এলাকায় তৈরি পোশাক শ্রমিক মাহফুজা আক্তার নাজমাকে দল বেঁধে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি রিপন (৩৯) মিয়ার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের খাগান এলাকায় আশুলিয়া মডেল টাউনের ভেতরে একটি খালি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিপনের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায়। তিনি আশুলিয়ায় ভাড়া থেকে নাজমার সঙ্গে একই কারখানায় লাইন চিফ হিসেবে কাজ করতেন।
নিহত রিপনের গলায় একটি চিরকুট ঝোলানো ছিল। যেখানে লেখা ছিলÑ আমি রিপন, গত ৫ তারিখে আশুলিয়ায় সহকর্মী নাজমাকে ধর্ষণ করেছি। পরে সে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কে বা কারা রিপনকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি পুলিশ।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে খাগান এলাকার আমিন মডেল টাউনের ভেতরের একটি খালি জমি থেকে রিপনের রক্তাক্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশটি উদ্ধারের সময় নিহতের গায়ে একটি ফুলহাতা শার্ট ও পরনে লুঙ্গি ছিল এবং গলায় ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তা গুলির চিহ্ন কি না তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, গত ৫ জানুয়ারি বেরন এলাকার ইয়াগী বাংলাদেশ কারখানার শ্রমিক নাজমা রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিল। এ সময় কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক পাশর্^বর্তী একটি মাঠে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করে। এরপর ৭ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা একই কারখানার আবদুর রহিম, লাইনচিফ রিপন, ক্যানটিন মালিক শিপন, ইব্রাহিমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ রহিমকে গ্রেপ্তার করলেও মামলা দায়ের পর থেকে প্রধান আসামি রিপন পলাতক ছিলেন।