আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ফাঁদ ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ’

এখন চলছে ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ’ এর মহাসমারোহ। বর্তমান ও দশ বছর আগের ছবির কোলাজ। যদিও এটি ‘বার্ড বক্স’, ‘টপ নাইন ফটো কোলাজ’–এর পরের সিরিয়ালের ট্রেন্ড। তবে 'টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ' হিসেবে বেশি জনপ্রিয় হলেও 'হাউ ডিড এজ হিট ইউ', '#২০০৯ ভার্সেস ২০১৯' এবং 'গ্লো আপ চ্যালেঞ্জ' নামেও পরিচিত এই বিষয়টি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তিতে দুর্দান্ত এক 'ফাঁদ' এটি। ফেসবুক বা গুগল মাগনা কিছু করে না, এটা ধ্রুব সত্য। ক্রাউড সোর্সিং এর মাধ্যমে ডেটা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আমি আপনি এসব প্রতিষ্ঠানের পুতুলমাত্র।

ফেসবুক তাদের নিজস্ব ফেশিয়াল রিকগনিশন অ্যালগরিদম আরও উন্নত ও অ্যাকুরেসি ভালো করার জন্য এ ধরনের ট্রেন্ড চালু করে এবং গোপনে তারা এসব ছবি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, সেই সাথে তার সিস্টেম আরও উন্নত হয়। ওই ছবির চ্যালেঞ্জ ফেসবুককে তাদের মেশিন লার্নিং উন্নত করার পূর্ণাঙ্গ সুযোগ পাচ্ছে। অর্থাৎ নিজের অজান্তেই আমাদের সবকিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিচ্ছি। এটি ভালো নাকি মন্দ সেটি তর্কের বিষয়।

ফেসবুক ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম যত আপডেট হবে ততই ফেসবুকের জন্য সুবিধা। চলমান এই ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ’ এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাশাপাশি দুটি ছবি পেয়ে যায় ফেসবুক। এতে ফেসবুকের জন্য ব্যাপক সুবিধা। ফেসবুকে ব্যবহারকারী কোনো ছবি আপলোড করলেই ধরতে পারবে ফেসবুক। যাতে একজন ব্যবহারকারী তার ছবি সামান্যতম পরিবর্তনও করে তাহলেও সিস্টেম ধরতে পারে। খেয়াল করবেন, গ্রুপ ছবি আপলোড করে সিস্টেম অটোমেটিকভাবেই অনেকের চেহারা ধরতে পারে এবং নিজেই ট্যাগ করে।

এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে দুটি আলাদা ও সহজে বিশ্লেষণ করার মতো ছবি ফেসবুক পেয়ে গেলে এরপর ফেসবুকে থাকা অন্য ছবিগুলো সময় হিসেব করে সাজালেই ফেসবুকের জন্য ওই ব্যক্তির পরিবর্তন সহজে বুঝতে পারবে। বয়সের সঙ্গে মানুষের বদল ধরাটা ফেসবুকের জন্য সহজ হবে এবং তারা ভবিষ্যতে নতুন কোনো প্রযুক্তি অপশন বা প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারবে। সেই প্রোডাক্ট ভালো হবে কি হবে না তার চেয়েও বড় কথা ওদের ব্যবসা হবে।

ব্যক্তিগত প্রাইভেসি বলে আর কিছু নেই! শুধু গায়ের পোশাকটা খুলে নেয়া বাকি। ইতিমধ্যেই ফেসবুক বা গুগল আমাদের ব্রাউজারের সার্চ হিস্টরি বা কুকি চুরি করে। ওরা আমাদের টেস্ট জানে, কে কী পছন্দ করে, কী খেতে পছন্দ করে, কী দেখতে পছন্দ করে ব্লা ব্লা। সব ডেটা আমরাই দেই। আবার আমরাই ব্লেইম করি- 'প্রাইভেসি বলে কিছু রাখলো না'!