সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পে কাজের গতি লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে এগোচ্ছে না। ফলে চলতি অর্থবছরের মোট বরাদ্দে অর্থ ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত এই বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৮৫ কোটি টাকা। এই অবস্থায় বছরের ৬ মাস পর এই বরাদ্দ থেকে ১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের বরাদ্দ দাঁড়াবে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকায়। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের পরিমাণ কমছে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেট্রোরেল প্রকল্পটি ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে সরকার। ২০১৬ থেকে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরুর লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। তথ্য অনুসারে নভেম্বর পর্যন্ত মোট বরাদ্দের মধ্যে পাঁচ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) আবদুল্লাহ বাকী মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্প জাপান সরকারের সহায়তাপুষ্ট। হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায় প্রায় দেড় বছর। তা না হলে ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের মধ্যে বড় অগ্রগতি থাকত মেট্রোরেলে। তবে এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। রাতে-দিনে কাজ চলছে । আশা করা যায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আর পিছিয়ে থাকবে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রকল্পটি আটটি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন সিপি-১ প্রকল্প ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৮-এর জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নে সিপি-২ প্রকল্পের ১৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণে নেওয়া হয়েছে সিপি-৩ ও ৪ প্যাকেজ। এ প্যাকেজের ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেষ হয়েছে, আর আর্থিক ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও তিনটি স্টেশন নির্মাণে নেওয়া হয়েছে সিপি-৫ ও ৬ প্যাকেজ। এই প্যাকেজের কাজ শুরু হয়েছে গত ১ আগস্ট। বর্তমানে এ অংশে স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং ও পরিষেবা (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন লাইন) স্থানান্তর শেষ হয়েছে। এই প্যাকেজের জন্য বরাদ্দের ১৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় শেষ হয়েছে।
ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম বাস্তবায়নে নেওয়া হয়েছে সিপি-৭ প্যাকেজ। গত ১১ জুলাই এ প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে আন্তঃপ্যাকেজ সমন্বয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ। আর্থিক ব্যয় হয়েছে প্যাকেজের জন্য বরাদ্দের ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রকল্পটির অষ্টম প্যাকেজ হচ্ছে রেলকোচ ও ডিপো ইক্যুইপমেন্ট কেনা। এ অংশে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ ভৌত কাজ শেষ হয়েছে ।
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকার কারণে রেলপথ অধীনে সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে ৭৭টি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অধীনে এডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশি অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে ধরা হয়েছেল ৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা।
এডিপি সংশোধন করে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা বর্তমান বরাদ্দের চেয়ে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা কম। সংশোধিত বরাদ্দে মধ্যে দেশীয় অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে, যা এডিপি বরাদ্দের ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা কম। আর বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা।