৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, নির্বাচনে ‘ভরাডুবির পেছনে প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’। তবে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ মোকাবিলার জন্য দলের যে সাংগঠনিক ভিত থাকার দরকার ছিল তা বিএনপির ছিল না। এ অবস্থায় দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ভাবনা জানতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাউন্সিল করার জন্য দলের মধ্যে যে দাবি উঠেছে সে বিষয়ে একমত তিনি। তবে এই মুহূর্তে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে ফিরতে পারছে না। আগে নেতাকর্মীদের বাড়িতে ফেরাতে হবে। তারপর তৃণমূল থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে পুনর্গঠন কাজে হাত দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে বিএনপি সমর্থক ডাক্তারদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। ড্যাবের বর্তমান কমিটির বয়স প্রায় ১৮ বছর। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরলে তৃণমূল থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সদস্যরা কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় দল পুনর্গঠনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
বিএনপির দফতর সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ দলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়। এরপর প্রায় তিন বছর পার হয়েছে। দলের কাউন্সিল করার সময় হয়ে গেছে। ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর ৩০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বিএনপির সপ্তম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে তারা জানান, কাউন্সিলের পর দলের যে স্থায়ী কমিটি করা হয় তাতে দুটি পদ খালি রাখা হয়। তাছাড়া এরমধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান দলীয় কর্মকান্ডে অনুপস্থিত। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর কয়েক সদস্যও মারা গেছেন। বয়সের কারণে কেউ কেউ নিষ্ক্রিয়। বয়স, সাজা, দলত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে ভাইস চেয়ারম্যানদের কেউ কেউও নিষ্ক্রিয়। যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে বেশিরভাগের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে এবং অনেকেই কারাগারে থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন জরুরি হয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়। নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় একমাত্র রাস্তা গণআন্দোলন। সেই গণআন্দোলন করতে হলে দরকার শক্তিশালী সংগঠন। আর শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব তুলে আনা।