শিল্পে খেলাপি বেড়েছে ৩৯.৫%

শিল্পে ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ঋণ আদায়ও বেড়েছে। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এ খাতে খেলাপির পরিমাণও। এক বছরের ব্যবধানে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যার বড় অংশই রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর। শিল্পঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্প খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ রয়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ১৮২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শিল্প খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে ৯৪ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ প্রান্তিকে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৬ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাত মোট ৮ লাখ ৬৮ লাখ হাজার ৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি গেছে শিল্পে। এ সময় মেয়াদি শিল্পঋণ ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। একই সময়ে শিল্পে চলতি মূলধনে ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা।

শিল্প খাতে বিতরণ হওয়া মোট ঋণের বড় অংশই গেছে বৃহৎ শিল্পে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পে বিতরণ হওয়া ঋণের ৭৮ দশমিক ৫১ শতাংশ গেছে বড় প্রতিষ্ঠানে। এর  বাইরে মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬২ হাজার কোটি টাকা ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ গেছে ৩৪ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বড় শিল্পে মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার মেয়াদি ও চলতি মূলধন ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ বেড়েছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫ ও ২৫ শতাংশ।

এক বছরের ব্যবধানে ঋণের পরিমাণ বাড়লেও খেলাপির পরিমাণও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ৪৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থাৎ এক বছরে শিল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৩৫ কোটি টাকা বা ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ খাতে খেলাপি হওয়া ঋণের মধ্যে ২৪ হাজার ৮৫৯ কোটি বা ৫৭ শতাংশই বড় শিল্পে। আর খেলাপি ঋণের ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ মাঝারি শিল্পে ও ১৬ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষুদ্র শিল্পে রয়েছে।

২০১৮ সালের জুন শেষে শিল্প খাতে বিতরন হওয়া ঋণের ৮ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল খেলাপি। আর একই বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্প খাতে বিতরণ হওয়া মোট ঋণের ৭৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বিতরণ করেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আর অবশিষ্ট ঋণের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ১৩ দশমিক ১৭ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংক ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ ও বিশেষায়িত ব্যাংক শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বিতরণ করেছে।

 বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শিল্পে ঋণ বেশি থাকলেও শ্রেণিকৃত ঋণ বা খেলাপি বেশি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতে খেলাপি হওয়া মোট ঋণের মধ্যে ৪৪ দশমিক ৯১ শতাংশ হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শিল্পঋণ হিসেবে বিতরণ করা ৫৯ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২৬ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে। এছাড়া মোট খেলাপি ঋণের ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ হচ্ছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

শিল্প খাতে খেলাপির পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্পে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৩ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৭ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরবর্তী সময়ে খেলাপিতে যোগ হয় বলে জানা গেছে।