গাইবান্ধার পূর্ব সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীর ৭৮ কিলোমিটারের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার। আর অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত আছে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা। স্থায়ীভাবে নদীর তীর আরও বেশি সংরক্ষণের দাবি ভাঙনকবলিত এসব এলাকার মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙন ঠেকাতে নদীর তীর স্থায়ীভাবে সিসি ব্লক বসিয়ে সংরক্ষণের কাজ করলে কয়েক যুগ টেকসই হয়। আর অস্থায়ীভাবে জিও টেক্সটাইল ব্যাগে বালু ভরাট করে প্রতিরক্ষা কাজ করলে তা তিন-চার বছর পর নষ্ট হয়ে যায়। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৪৯৫ মিটার ও অস্থায়ীভাবে ৬৫০ মিটার। সদরে ১৭ দশমিক ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স্থায়ীভাবে ১ দশমিক ৭৮০ কিলোমিটার ও অস্থায়ীভাবে ৫৫২ মিটার। ফুলছড়িতে ১৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে স্থায়ীভাবে ২ দশমিক ৫৭২ মিটার ও অস্থায়ীভাবে ৮১২ মিটার এবং সাঘাটা উপজেলায় ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে স্থায়ীভাবে ৪ দশমিক ৭৯৮ মিটার ও অস্থায়ীভাবে ৮১৯ মিটার।
গত ১৪৭ বছরে নদীভাঙনকবলিত এই চার উপজেলার কয়েকশ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে সর্বস্ব হারিয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের টোনগাঁও গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নদীভাঙনে গ্রামটা শেষই হয়ে গেল। কিন্তু কখনো নদীর তীর সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে গ্রামটা নদীতে বিলীন হবে।’
গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে নদীভাঙনে সর্বস্বহারা মানুষের সংখ্যা।
গত ৪৭ বছরে যে ৯ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার এলাকার নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।’
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ফুলছড়ি উপজেলায় ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার ও সদরে ৩০০ মিটার এলাকা স্থায়ীভাবে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। ফুলছড়িতে দুই কিলোমিটার ও সাঘাটায় আট কিলোমিটার এলাকা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। এছাড়া সদরে ও সুন্দরগঞ্জের আরেকটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেটি সংশোধনের জন্য এসেছে। এসব প্রকল্প একনেক সভায় পাস হলে যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর কাজ শুরু হবে।’