৮ আইজির ৪ তারকা চায় পুলিশ

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদ চার তারকায় রূপান্তর, স্বতন্ত্র পুলিশ বিভাগ গঠন, আরও এক লাখ সদস্য নিয়োগ, ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য ঝুঁকি ও শ্রান্তি (রিফ্রেশমেন্ট) ভাতাসহ একগুচ্ছ দাবি জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ‘পুলিশ সপ্তাহে’ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মকর্তারা জানান, বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনটি সফল করতে পুলিশ সদর দপ্তর বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিদিনই পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা বিশেষ বৈঠক করছেন। এ ছাড়া পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আলাদাভাবে বৈঠক করছে। গতকাল সোমবারও পুলিশ সদর দপ্তরে নীতিনির্ধারকদের একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে আইজিপি, সব অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি, ৫ মহানগর কমিশনারসহ পুলিশ সদর দপ্তরের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুলিশ সপ্তাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।  তাছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও অনির্ধারিত আলোচনা হয়। পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন কমিটির প্রধান ও সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাঁকজমকভাবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা

করছি। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সারা বছর যারা ভালো কাজ করেছেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে।’ পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরবেন বাহিনীর সদস্যরা। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দরবার অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। দরবারে কনস্টেবল থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের দাবিগুলো উত্থাপন করবেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রথম সপ্তাহ পালিত হয় ১৯৭৫ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে। ওই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়ে সব সদস্যকে উজ্জীবিত করে তোলেন। এর পর থেকে প্রতি বছরই পুলিশ সপ্তাহ হয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দাবি ছিল আইজিপি পদটি ফোর স্টারে রূপান্তরিত করা। এবারের পুলিশ সপ্তাহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোরালো দাবি করব আমরা। বর্তমান সরকারই আইজিপি পদটি থ্রি স্টার করেছিল। এ নিয়ে আমরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এই সরকারের আমলেই পুলিশ সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে তা সত্য। পুলিশে নিয়োগ হয়েছে বেশি। নতুন করে আরও এক লাখ সদস্য নিয়োগের দাবি জানানো হবে। তাছাড়া পুলিশ বাহিনীতে আরও পদ সৃষ্টি করার দাবিও তোলা হবে। সুপারনিউমারারি পদ বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাডারভুক্ত পুলিশের ঝুঁকি ভাতা বাড়ানোর ব্যাপারেও দাবি উত্থাপন করা হবে। পুলিশ আইন সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।  স্বতন্ত্র পুলিশ বিভাগ গঠন করার দাবিও উত্থাপন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানায়, পুলিশ সপ্তাহ সাধারণত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পালিত হয়।  ২০১৮ সালে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছিল ৮ জানুয়ারি। কিন্তু এবার সংসদ নির্বাচনের কারণে এক মাস পিছিয়ে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। জাতীয় নির্বাচনের ধকল শেষে ফুরফুরে আমেজেই পালিত হবে এবারের আনুষ্ঠানিকতা।  রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে সকালে বর্ণাঢ্য পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ৮ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধসংক্রান্ত মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শেষ হবে এই আয়োজন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুষ্ঠানের প্রথম দিন সকালে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কন্টিনজেন্ট, সুসজ্জিত বাদক দল, অশ্বারোহী দল ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শনের মাধ্যমে অভিবাদন গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২০১৮ সালে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকের ব্যাজ পরিয়ে দেবেন তিনি। পরে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ অডিটরিয়ামে পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কল্যাণ সভায় যোগ দেবেন। এ সভায় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সার্বিক অবস্থা বর্ণনা করে তাদের কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন। মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে এই সভা শেষ হবে। পরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হবে কল্যাণ প্যারেড। পরদিন প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। একই দিন বিকেলে রাজারবাগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠক ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তৃতীয় দিন পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।  রাজারবাগে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি ব্যাজ দেওয়া হবে। ৭ ফেব্রুয়ারি রাজারবাগে পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে আইজিপির বৈঠক, সিআইডির সঙ্গে বিশেষ সভা, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া সপ্তাহ জুড়ে চলবে বিভিন্ন সভা-সেমিনার। এ সময়েই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিজেদের ২০১৮ সালের কাজের মূল্যায়ন ও ২০১৯ সালের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।