৩০০ ডিজিটের নম্বর চাপতে চাপতে নাকাল গ্রাহকরা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা পড়েছেন এক চরম ভোগান্তিতে। মিটারে টাকা রিচার্জের পর তাদের মোবাইলে ৮০ থেকে ৩০০ ডিজিটের অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন নম্বর আসছে। অনেকে এতবড় ডিজিট মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল করছেন। ফলে লক হয়ে যাচ্ছে মিটার। এতে তাদের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আবার লক হওয়া মিটার সচল করতেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। গ্রাহকদের যেতে হয় বিদ্যুৎ অফিসে। সেখানে আবেদন ফি জমা দিয়ে মিটার ফের আনলক করতে হয়।

পার্বতীপুর শহরের আমীরগঞ্জ মহল্লার গ্রাহক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় দোকান থেকে এক হাজার টাকা রিচার্জ করি। রিচার্জের নম্বরে ৩০০ ডিজিটের টোকেন আসে। এত সংখ্যা কি একবারে চাপা যায়! পরে বহু কষ্টে মিটার চালু হয়েছে।’

বিদ্যুতের গ্রাহকদের মতে, বিপুলসংখ্যক প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে বয়স্ক, স্বল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ মানুষ রয়েছেন। তাদের কথা বিবেচনা না করে হঠাৎ এত দীর্ঘ টোকেন চালু করায় গ্রাহক ভোগান্তি বেড়েছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পার্বতীপুরের আওতায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার গ্রাহকের স্মার্ট প্রিপেইড বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপন করা হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে বাকি আট হাজার গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পাড়া-মহল্লায় গণশুনানি, সভা, গ্রাহকসেবা অবহিতকরণ চলছে। এর মাধ্যমে বাসাবাড়ি, পৌরসভা, সেচপাম্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অস্থায়ী গ্রাহক, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন, ক্ষুদ্র শিল্প, দাতব্যসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম কাজ করছে। নেসকো পার্বতীপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, সব সরকারি দপ্তর/আবাসিক ভবনসমূহে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে সিঙ্গেল ফেজ ৪০ টাকা ও থ্রি ফেজ ২৫০ টাকা হারে মিটার ভাড়া কর্তন করা হয়। রিচার্জকৃত এনার্জিও ওপর সরকার কর্তৃক প্রণোদনা হিসেবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) রয়েছে। এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক/যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মিটার নষ্ট হলে সংস্থা কর্তৃক বিনামূল্যে মিটার বদলে দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিদ্যুতের অপচয়, চুরি, ওভার লোড ও বকেয়া বিল ঠেকাতে প্রিপেইড মিটার ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে নেসকো। অটোমেশনের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সুবিধার্থেই এ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার।

রবিউল ইসলাম, মাসুদ পারভেজসহ একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। আগের অ্যানালগ মিটারের তুলনায় প্রিপেইড পদ্ধতি মোটেও গ্রাহকবান্ধব নয়। অস্বাভাবিক লম্বা টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল হয়ে যাচ্ছে। ফলে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। ফলে গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

শহরের পূর্ব হুগলিপাড়া মহল্লার আনোয়ার হোসেন বলেন, মিটার সচল করতেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। রুস্তমনগর মহল্লার শামিউল আহমেদ বলেন, রিচার্জের নামে অতিরিক্ত মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাটসহ আনুষঙ্গিক টাকা কর্তনের ঘটনায় রীতিমতো বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। সরকারপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, ‘রিচার্জ বিড়ম্বনার শেষ নেই। ফালতু সিস্টেম প্রিপেইড মিটারের, আমার মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে ২০০ ডিজিটের টোকেন এসেছে। এত বড় ডিজিট চাপতে চাপতে নাজেহাল অবস্থা। দুবার ভুল করার পর তিনবারে একজনের সহযোগিতা নিয়ে ইনস্টল করতে পেরেছি।’

এ বিষয়ে নেসকো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি, এর সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি। বলেছেন, পরে কথা বলবেন। এখন পর্যন্ত তারা কথা বলেননি।’

পার্বতীপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজি মহিবুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে বয়স্ক, স্বল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ মানুষ রয়েছেন। তাদের কথা বিবেচনা না করে হঠাৎ এত দীর্ঘ টোকেন চালু করায় গ্রাহক ভোগান্তি বেড়েছে।’ 

বিদ্যুৎ বিভাগও গ্রাহকদের এ ধরনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে পার্বতীপুর আবাসিক প্রকৌশলী (নেসকো) মো. রুহুল আমীন বলেন, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে পার্বতীপুর শহরের সব বাসাবাড়ির পূর্বের অ্যানালগ বা ডিজিটাল মিটারের পরিবর্তে বর্তমানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চলছে। প্রতিদিন গ্রাহক আসেন মিটার লক হয়েছে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে। আবেদন ফি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবারও মিটার লক আনলক করে দেওয়া হয়। মিটারে এ নতুন মূল্যহার কার্যকর করতে রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে অতিরিক্ত টোকেন পাঠানো হচ্ছে। একবার সতর্কতার সঙ্গে টোকেনটি সঠিকভাবে রিচার্জ করলে মিটার নতুন ট্যারিফ বুঝতে পারবে। চলতি জুন মাসের মধ্যে আট হাজার মিটার সংযোগের পরিকল্পনা গ্রহণ করে সে অনুযায়ী মিটার স্থাপন করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত