রোহিঙ্গাদের জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাখাইনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে রাজ্য সরকার। দেশটির সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে কানিয়িন চং অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোনে নার কিউন শিল্পাঞ্চল এবং গবাদি ও কৃষি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে।  

২০১৫ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সহিংসতা ও নিপীড়নের থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। এখন তাদের ছেড়ে আসা বেশ কিছু এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে কাজ করছে মিয়ানমার সরকার।    

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কানিয়িন চং অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী মার্চেই এখানে কার্যক্রম চালু হবে বলে আশা করছেন রাখাইনের অর্থ, রাজস্ব, পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রী উ কিয়াউ আয়ে থেইন। কানিয়িন চং অর্থনৈতিক অঞ্চলটি মংদু টাউনশিপের কাছে। বাংলাদেশ ও ভারতের নিকটবর্তী এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৫ সালে প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার।  সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উ নি পু বলেন, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের জন্য বানিয়িন চং অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কানিয়িং চংয়ের পাশাপাশি রাজ্য সরকার পোনে নার কিউন টাউনশিপে পোনে নার কিউন শিল্পাঞ্চল নিয়েও কাজ করছে। এই শিল্পাঞ্চল নির্মাণের কাজ আগের সরকারের আমলে শুরু হলেও দেরি হয়েছিল। এখন পুনরায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হবে।

উ কিয়াউ আয়ে থেইন বলেন, ‘ন্যাশনাল প্রজেক্ট ব্যাংক অব দ্য মিয়ানমার সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের আওতায় পোনে নার কিউন শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে। এতে বিনিয়োগে অংশ নিতে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাব আমরা।’ কিসাপানাডি নদীর তীরবর্তী কিয়াউকতো টাউনশিপে কৃষি ও গবাদিপশু বিষয়ক অঞ্চলও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাখাইন সরকারের। উ কিয়াউ আয়ে থেইন এ বিষয়ে জানান, কিয়াউকতো ও ম্রাউক উ টাউনশিপে কৃষি ও গবাদিপশু বিষয়ক অঞ্চল নির্মাণে বিনিয়োগ করবেন থাই বিনিয়োগকারীরা।