রাজধানীর যানজট নিরসনে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভায় ১ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকায় মোট আট প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
পরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, একনেক বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য মন্ত্রীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি প্রকল্পের সর্বোচ্চ মান রক্ষায় পরিকল্পনা কমিশনকে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যয় হবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করা। উন্নয়নের পথে আমরা সবাই তীর্থযাত্রী। তাই সবাই মিলেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। জনগণের অর্থ খরচে সব সময় সাবধানতা বজায় রাখব। প্রয়োজন ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত খরচ করব না।’
মন্ত্রী বলেন, এ এলাকায় বেশ কিছু বাণিজ্যিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় যান চলাচলের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। কাঁচপুর সেতুর যানজট এড়ানোর জন্য সিলেট থেকে আগত যানবাহন তারাবো-যাত্রাবাড়ী সড়কাংশ ব্যবহার করে। প্রকল্পটি যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পের আওতায় যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়ক ১৫ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থে চার লেন সড়ক হিসেবে নির্মাণ করা হবে। এখন সড়কের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। ধীরগতির যান চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত মূল চার লেন সড়কের উভয় পাশে দুই লেনবিশিষ্ট আলাদা সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পিপিআর রোগ নির্মূল এবং খুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ, ২০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ উচ্চ মূল্যে অপ্রধান শস্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কর্মসূচি, ৩৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান সাতটি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন ও নতুন ছয়টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে স্থাপন, ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ, ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেত্রকোনা জেলার চল্লিশা (বাগড়া)-কুনিয়া-মেদনী-রাজুরবাজার সংযোগ মহাসড়ক নির্মাণ এবং ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে গোবিন্দগঞ্জ ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে নয়টি সরু ও জরাজীর্ণ সেতুর জায়গায় নয়টি আরসিসি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস।