বিদিশার আবেগঘন স্ট্যাটাস

আগামীকাল থেকে এরশাদের নতুন চিকিৎসা

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সুস্থ ও ভালো আছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সেখানকার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এরশাদের চিকিৎসার ‘নতুন’ পর্ব শুরু হচ্ছে।

এরশাদের ছোট ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরে এরশাদের জন্য এক দোয়া মাহফিলে বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সুস্থ ও ভালো আছেন। আগামীকাল থেকে তার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে।

এর আগে গতকাল দল থেকেও পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়। ফেইসবুকে আসা এরশাদের মৃত্যুর খবরটি সত্য নয় বলেও জানান এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। তিনি গুজবে কান না দিয়ে এরশাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করতে বলেছেন সবাইকে। পরে এ ব্যাপারে জানতে ফোন দিলে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল তার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কথা হয়েছে। তিনি এখন সুস্থ আছেন। ফেইসবুকের খবর সত্য নয়।

এরশাদের সুস্থতা কামনা করে তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা গতকাল ফেইসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। দেশে থাকা অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দেখতে গেলে এরশাদের সঙ্গে বিদিশার কী নিয়ে কথা হয়েছে তাও উল্লেখ করেছেন স্ট্যাটাসে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফেইসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এরশাদের মৃত্যুর গুঞ্জন শোনা যায়। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় এবং লিভারের সমস্যার উন্নত চিকিৎসা নিতে গত রবিবার সিঙ্গাপুরে গেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদ।

বিদিশার আবেগঘন স্ট্যাটাস : এরশাদের সুস্থতা কামনা করে ফেইসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে তিনি তার ফেইসবুকের টাইমলাইনে লেখেন, ‘উনাকে আরো কিছুদিন বাঁচতে দিন। আমি আমার খাজা বাবার কাছে এসেছি ওনার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে।’

বিদিশা লেখেন, ‘ফেইসবুকে দেখছি অনেকে ওনাকে মেরে ফেলছেন ফলস নিউজ দিয়ে। বিশ^াস করুন, উনি আরো কিছুদিন বাঁচতে চান আমাদের ছেলে এরিকটার জন্য। উনি এই পৃথিবীতে এরিক ছাড়া বোধহয় আর কাউকে এত ভালোবাসেননি। তাই আমিও সব মাতৃত্বের লড়াই করার পরেও ছেলেকে বাবার থেকে আলাদা করতে পারিনি। সব থেকে বেশি স্যাক্রিফাইস করেছি আমি আমার সন্তানকে কাছে না রেখে, চোখে না দেখে। তার পরও আমাকে পরম আনন্দ দেয় বাবা-ছেলের খুনসুটি দেখে। আনকন্ডিশনাল বন্ডেজ। এত্ত বয়সের গ্যাপ বাবা-ছেলে, তার পরও চোখে পড়ার মতো বন্ধুত্ব, ছেলেকে স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে একজন বৃদ্ধ পিতা, হলিডেতে বাবা ছেলে একসাথে ভ্রমণ।’

স্ট্যাটাসে বিদিশা বলেন, ‘রাতে এরিক ছাড়া উনি ঘুমাতে পারেন না একদম। এই তো গত সপ্তাহেই আমি যখন সিএমএইচ গেলাম দেখতে, দেখি নাশতা করেননি, অপেক্ষায় আছে এরিকের। দুপুরে এরিক স্কুল থেকে ফিরলে লাঞ্চ করবেন বললেন।’

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এরশাদকে দেখতে যাওয়ার পর সেখানে তার সঙ্গে এরশাদের কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিদিশা : ‘আমাকে সরি বললেন। অনেক অন্যায় হয়ে গেছে আমার সাথে। সে অন্য প্রসঙ্গ। অনেক স্মৃতিচারণ করলেন উনি। বলেই ফেললেন, রাত জেগে এরিক নাকি বকবক করে, যা নাকি আমি করতাম এক কালে। উনি চোখ বন্ধ করলে এরিক জোর করে চোখ খুলে দেয়। বলে আচ্ছা ড্যাডি, এইবার তা হলে একটা রবীন্দ্রসংগীত শোনাই। কিন্তু তুমি ঘুমাবে না আমার আগে। গান করতে করতে এরিক নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে। আমিও নাকি এই একই কাজ করতাম অনেক বছর আগে।

সেদিন ওনার চোখে জল ছিল। জীবন মৃত্যুর এই শেষ সময় ওনার উপলব্ধিগুলো নিশ্চয় মিথ্যা নয়।

‘৪০ মিনিট আমার হাত ওনার দুই হাত দিয়ে ধরে বসেছিলেন। চোখ দিয়ে ঝরছিল জল আমাদের দুজনেরই। আমাদের দুজনের মধ্যে সময়ের গ্যাপটা অনকে বেশি হয়ে গেছে এতদিন। তাই আর ওনার জীবনের শেষ সময়ে আমি কোনো সেবা করতে আর পারলাম না। উনি বললেন আমি নাকি বেশি সোজাসাপ্টা। লম্বা হয়েছি বুদ্ধি হয়নি আমার।’

বিদিশা আরো লেখেন, ‘আমার মনে হয়েছে উনি আরো কিছুদিন বাঁচতে চান ওনার এরিকের জন্য শুধু। আমিও চাই আরো কিছু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আনন্দ উনি এরিকের কাছে থেকে নিয়ে যাক। যেটা একমাত্র এরিক দিতে পারবে ওনাকে। কারণ এরিক তো স্পেশাল চাইল্ড।’