নোয়াখালীর কবিরহাটে ঘরের সিঁধ কেটে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এরা হলেন আবদুল রব হোসেন মান্নান, হারুনুর রশিদ ও সেলিম। গতকাল মঙ্গলবার নোয়াখালীর বিচারিক হাকিমনবনীতা গুহ তাদের রিমান্ডে আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকতা নোয়াখালী পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের হেফাজতের আবেদন করলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নির্যাতিতার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান ও সাবেক সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আদালত পরিদর্শক নামজুল হুদা।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান জানান, সুস্থ না হতেই গতকাল দুপুরে নির্যাতিতাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি হুইল চেয়ারে আদালতে গিয়ে হলফনামা দিয়ে জানান, তার এখনো চিকিৎসা শেষ হয়নি, তিনি হাঁটতে পারেন না। বিশেষ মহলের নির্দেশে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আবদুর রব হোসেন মান্নান তার দেবর, হারুনুর রশিদ তার মামা এবং সেলিম তার ননদের স্বামী। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। প্রভাবশালী আসামিদের আড়াল করার জন্য পুলিশ তার নিকটাত্মীয়দের গ্রেপ্তার করেছে। ওই তিন জনকে আসামি করে তৈরি এজাহারে কবিরহাট থানার ওসি জোর করে তার স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ করে তিনি তার তিন আত্মীয়কে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করেন।
আদালত শুনানি শেষে নির্যাতিতার সুচিকিৎসার জন্য তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন এবং ওই তিন জনকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, তার অগোচরে ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তাকে আবার ভর্তি করা হয়েছে। পুরো সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলবে এবং ওষুধ সরবরাহ করা হবে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, মূল আসামি জাকির গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে স্বামীর অনুপস্থিতিতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে একদল যুবক। এই ঘটনায় শনিবার দুপুরে ওই নারী স্থানীয় জাকির হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি করে কবিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২৩ ডিসেম্বর বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ওই নারীর স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার স্বামী ধানের শীষের কর্মী বলে মামলায় জড়িয়ে কারাগারে ঢোকানো হয়েছে বলে তার ভাষ্য।