নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়া নিয়ে বিএনপিতে মতভেদ

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে একযোগে ৩০০ আসনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু দলের কোনো কোনো প্রার্থী ট্রাইব্যুনালে মামলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ট্রাইব্যুনালে গেলে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। তবে বিএনপি এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এ বিষয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আরও বিচার বিশ্লেষণ চলছে। এর ভবিষ্যৎ কী হতে পারে তাও ভাবা হচ্ছে। অনেক ধরনের মত এসেছে। সব বিষয়ে আলোচনা করে দলীয় ফোরাম মামলা করা না করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

দলের একাধিক আইনজীবী বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে গেলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনের জামিন না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের যে রায়, তাতে আদালতের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গেলে ন্যায়বিচার তো পাওয়া যাবে না বরং আইনিভাবে ৩০ ডিসেম্বরের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

তারা আরও বলেন, ‘যে দেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পায় না, অন্যায়ভাবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে জামিনে পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয় না, সেখানে বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আর আস্থা রাখা যায় না।’

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোনো কোনো প্রার্থী এমনটা বলছেন। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি দলীয় ফোরামে।