বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সড়কমন্ত্রী

কোথা থেকে কত টাকা আসে সব জানি

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, বিআরটিসিতে অনিয়ম-দুর্নীতির জঞ্জাল দীর্ঘদিন ধরে বাসা বেঁধেছে। কোন কর্মকর্তা কত টাকা বেতন পান, কোথা থেকে কত টাকা আসে, সব আমি জানি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিআরটিসি ভবনে সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংস্থার চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিআরটিসির মধ্যে খুব একটা সুনামের বিষয় নেই মন্তব্য করে সড়কমন্ত্রী বলেন, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেষ্টা করছেন, কিন্তু এটা খুব চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, ‘নতুন গাড়ি আসবে। জনগণের জন্য সেটা স্বস্তির খবর, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এর আগেও গাড়ি এসেছে, এইসব গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাজে অবস্থায় রয়েছে।’ বিআরটিসির বহরে ১১০০ গাড়ি যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এপ্রিলের মধ্যেই এসব গাড়ি আসবে। এরই মধ্যে কিছু গাড়ি গাজীপুরে এসেছে। নতুন গাড়ি, নতুন রুটে চলবে। বিআরটিসির কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতি যদি তাদের ভালোবাসা না থাকে, তাহলে দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা আছে, তা ভাবার কারণ নেই। অনেকে নিজের পকেটের উন্নয়নে বিআরটিসিকে ব্যবহার করেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হঠাৎ একটা বিআরটিসি বাসে যখন আমি উঠি, তখন দেখি সিটে ছাল-বাকল উঠে গেছে। এসি কাজ করে না। এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে।’ বিআরটিসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বে আছেন, কার কত ইনকাম, আমি ভালো করে জানি। কীভাবে ইনকাম হয়, তাও জানি। আপনাদের উন্নতি হয়, কিন্তু বিআরটিসির উন্নতি হয় না।’ বিআরটিসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যেসব গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় লিজ দেওয়া আছে সেগুলোর হিসাব দিতে হবে। কার কাছে কত বছর ধরে কতটি গাড়ি আছে, কিসের বিনিময়ে আছে, এগুলো জানা দরকার। তা না হলে কোটি কোটি ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে গাড়ি এনে জনস্বার্থে লাগবে না। বিআরটিসি আর কতদিন লোকসান দিয়ে চলবেÑ এ প্রশ্ন রেখে সড়কমন্ত্রী বলেন, অনেক দাম দিয়ে বিআরটিসি বাস কেনা হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন পর ডাম্পিংয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে।