জোরপূর্বক নগ্ন ছবি তুলে প্রতারণা, নারীসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

প্রতারণার ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি তুলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ ৬ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি তৈরি আইনে মামলা দায়ের করেছেন প্রতারণার শিকার মো. তারেক খান।

বুধবার দুপুরে বরিশাল মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. মোশারেফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার নগরের আমানতগঞ্জ এলাকা থেকে ৬ প্রতারককে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, আয়েশা আক্তার, সুমন সরদার, মুন্না চৌধুরী, মো. মনির হাওলাদার, তানভির খান, জুলহাস সরদার। এছাড়া, সুমি আক্তার ও রেজাউল ইসলাম নামে দুইজন পলাতক আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আয়েশা আক্তার বাসায় কাজের মেয়ে দেওয়ার কথা বলে তারেক খানকে গত রোববার আমানতগঞ্জ এলাকায় হাসিনা মঞ্জিল নামক একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। ফ্ল্যাটে ঢোকার পর দরজা আটকে দিয়ে আয়েশা ও আগে থেকে অবস্থানরত সুমি আক্তার তারেক খানকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে থাকেন এবং তারেকের গায়ের জামাকাপড় খোলার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে বন্ধ দরজা খোলার জন্য কড়া নাড়া হয়। তখন ভেতরে থাকা দুই নারী দরজা খুলে দেয়। এ সময় ভেতরে প্রবেশ করা কয়েকজন তারেক খানকে মারধর করে তার গা থেকে জামা কাপড় খুলে নগ্ন করে জোরপূর্বক সুমিকে জড়িয়ে ধরতে বাধ্য করে এবং সেই ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে।

পুলিশ জানায়, ওই ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তারেকের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা। তারেক এক বন্ধুর মাধ্যমে বিকাশে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ ও বাকি টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে মুক্ত হন। তিনি এ ঘটনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি তৈরি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।