বিবাদমান দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে তাবলিগ জামাতের ইজতেমা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলিগের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। সমঝোতা অনুযায়ী, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন না দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভী।
এদিন সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবকিছুর মালিক আল্লাহ। আমি আজ (বুধবার সন্ধ্যায়) ওমরায় যাচ্ছি। যাওয়ার আগে আমি নিজ উদ্যোগে দুই পক্ষকে ডেকে বলেছি, আপনারা নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ফেলুন। তারা আমাকে বিরোধ না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি, ইজতেমা নিয়ে বিরোধ মিটে গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে আর সমস্যা হবে না।’
এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাওলানা সাদ এবার ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন না। ফেব্রুয়ারির যেকোনো সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা করতে সম্মত হয়েছে।’ মন্ত্রী জানান, ইজতেমার তারিখ ঠিক করার জন্য দেওবন্দপন্থি মাওলানা জুবায়ের আহমেদ ও সাদপন্থি মাওলানা ওয়াসেকুল ইসলাম ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন।
এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার পর তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করে। মাওলানা সাদের অনুসারীরা ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। এর বিরোধিতা করে ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা। এ নিয়ে সারা বছরই উত্তেজনা বজায় থাকে। দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন ও একে অন্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে থাকেন দুই পক্ষের অনুসারীরা।
তাদের বিরোধ এতটাই প্রকট হয় যে, গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও একজন।
পরে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস মোল্লা। রিটকারী পক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বিভক্ত হলে দ্বীনের প্রচার করবেন কীভাবে?’ বিষয়টি নিয়ে আদালতে আসাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন বিচারক। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। আদালত রিটকারীর উদ্দেশে বলে, ‘আগে নিজেরা সংশোধন হন, সুস্থ হন এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ নিরসন করুন। তারপরই আপনাদের আবেদন শুনব।’ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ২৭ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করে হাইকোর্ট। এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে দুই পক্ষকে সচিবালয়ে ডাকেন।