এটিএম বুথের প্রহরী খুন মুখোশধারীর হাতুড়ির আঘাতে মৃত্যু

রাজধানীর বারিধারায় যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীর খুনির মুখ ও শরীর সাদা কাপড়ে জড়ানো ছিল। গত সোমবার ভোর ৬টার দিকে বুথে ঢোকে মুখোশধারী খুনি। এ সময় ওই বুথের গার্ড শামীম ভেতরের ফ্লোরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বুথে ঢুকেই খুনির হাতের কবজির মধ্যে লুকানো হাতুড়ি বের করে ঘুমন্ত শামীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। পাঁচ-ছয়টি আঘাতেই মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বুঝতে পারে সিসিটিভিতে সব রেকর্ড হয়েছে। এ সময় খুনি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। তার আগেই খুনের দৃশ্য রেকর্ড

হয় ক্যামেরাতে। সিসিটিভি ফুটেজে শামীম খুনের এমনই চিত্র দেখা গেছে। তবে হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এটিএম বুথও ভাঙচুর করে খুনি। অবশ্য বুথের বাইরে খুনির অন্য সহযোগী ছিল কি না এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

হত্যার ঘটনার মূল সন্দেহভাজন এলিট সিকিউরিটি ফোর্স লিমিটেডের জোন ম্যানেজার ফারুকসহ একই প্রতিষ্ঠানের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শামীমও এলিট সিকিউরিটি ফোর্সের অধীনে নিরাপত্তাপ্রহরীর চাকরি করতেন। নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ফারুকের বারিধারার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু জিনিস ও বিলাসবহুল একটি গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার বারিধারার জে-ব্লকের যমুনা ব্যাংকের বুথের সামনের সিঁড়িতে দেখা গেছে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। বুথটি সিলগালা করা হয়েছে। আমেরিকান এমবাসির ঠিক উল্টো পাশে মেইন রাস্তার পাশে এটিএম বুথে এমন খুনের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসি। যমুনা ব্যাংকের ওই বুথের পাশেই বিসমিল্লাহ টায়ার ভলকানাইজিং নামে একটি মোটর পার্টসের দোকানের মালিক মঈনউদ্দিন বলেন, চার-পাঁচ বছর হলো এখানে দোকান দিয়েছি। আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। ওই গার্ডকে তিনি চিনতেন না বলে জানান।

এদিকে পুলিশের ধারণা, পূর্ববিরোধ থেকেই খুন হয়েছেন শামীম। আর এজন্য পেশাদার খুনি ভাড়া করা হতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মনে হয়নি খুনি টাকা নিতে এই হামলা করেছে। শামীমের মৃত্যু নিশ্চিত করা তার প্রধান লক্ষ্য ছিল। তাছাড়া বুথ ডাকাতির ঘটনা সাধারণত সকালে হয় না।

জানা গেছে, শামীম খুন হওয়ার দুদিন আগে তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোন নিয়ে ফারুকের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে ফারুকের সঙ্গেও শামীমের ঝামেলা হয়। জোন ম্যানেজার ফারুকের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন শামীমকে নানা হুমকিও দেয়। অবশ্য যারা ঝামেলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্র্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে এমন আভাস দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।

এলিট সিকিউরিটি ফোর্স লিমিটেডের ডিএমডি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর আক্তার চৌধুরী গতকাল তার কার্যালয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আনিসকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

শামীম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শামীম হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফারুককে আটক করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরাসরি খুনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ফারুক নয়, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারণ খুনির হাতের ছাপ ও অন্যান্য আলামতের সঙ্গে ফারুকের শরীরের মিল পাওয়া যায়নি।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে খুনি পেশাদার ও প্রশিক্ষিত। সন্দেহভাজন খুনিকে গোয়েন্দা জালে নেওয়া হয়েছে। খুনের কারণ হিসেবে একটি মোবাইল ও মাদক ব্যবসাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’