চাঁদাবাজি ও পুলিশকে মারধরের অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় রাজধানীর পল্টন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ নাজমুল হোসাইন মিরনসহ ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পুলিশকে মারধরের মামলায় মিরনসহ নয় আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে পুরানা পল্টনের আজাদ ট্রেড সেন্টারের সামনে চাঁদাবাজি ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার সময় ১৭ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে একজনকে ছেড়ে দিয়ে বাকিদের দুই মামলায় গ্রেপ্তার
দেখায় পুলিশ। মতিঝিলে বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শিবলী নোমান গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে জানান, একটি মামলার বাদী আসলাম আহসান তুষার ও অন্য মামলার বাদী পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হক। আসামিদের পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন শেখ নাজমুল হোসেন, ওয়াহিদুল ইসলাম, আরিফ, শেখ রহিম, রাসেল, শাহ আলম চঞ্চল, আরিফ হোসেন, কাওসার আহমেদ সাইফ, মোয়াজ্জেম, বিএম আসলাম হোসেন, মেহেদী হাসান, জুয়েল, শরিফুল ইসলাম, সোহেল তালুকদার, সম্রাট ও সাখাওয়াত হোসেন।
এর মধ্যে প্রথম নয় আসামিকে পুলিশ সদস্যদের মারধরের মামলায় গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে এক দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন বিচারক। এছাড়া চাঁদাবাজির মামলায় সাত আসামির রিমান্ড আবেদন নাকচ করে আদালত।
গতকাল করা পল্টন থানার ৩৯ নম্বর মামলায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। পরে সেই অর্থ আদায় করতে গেলে বাদী আসলাম আহসান তুষারকে মারধর করার অভিযোগে মামলা হয়। মামলার অভিযোগে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তুষার ও তার আত্মীয়দের কাছ থেকে ২০১৮ সালে ১০ লাখ ৮০ হাজার অর্থ আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য মামলার এজাহারে বলা হয়, সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর করছে এমন তথ্য পেয়ে পল্টনের বিশ্বাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ভবনে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখে আসামিরা অফিসের চেয়ার, টেবিল ও কম্পিউটার ভাঙচুর করছে। বাদী এসআই আশরাফুল হক আসামিকে ভাঙচুর না করার অনুরোধ করলে আসামিরা পুলিশকে মারধর করে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।