তিন দিন ধরে বন্ধ শহরের ব্যস্ততম সড়ক। কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন বিকল্প উপায়ে অনেকটা পথ ঘুরে যাতায়াত করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কারণ বাঁশ ও লোহার বেড়া দিয়ে সেই সড়ক আটকে মার্কেট নির্মাণ করছেন রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা।
তবে তিন দিনেও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত নয় বলে জানায়।
জেলার রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারীর ছোট ভাই ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তাহের পাটওয়ারী মঙ্গলবার থেকে পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জনতা ব্যাংক সড়কটি বন্ধ করে দেন।
এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ দেখা দিলেও আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের কর্ণপাত করছেন না বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আবু তাহের, সঞ্জয় রায়, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে জানান, রামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র জনতা ব্যাংক সড়কটি মঙ্গলবার সকাল থেকে বাঁশ ও লোহার রডের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত সড়কটি বন্ধ রেখে জেলা পরিষদ খাল সংলগ্ন স্থানে মেয়র ও তার ভাইয়ের মালিকানাধীন পুরাতন মার্কেট ও একটি ভবন ভাঙার কাজ চলছে। এখানে গড়ে তোলা হবে নতুন মার্কেট।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী সড়ক বন্ধ হওয়ার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জানালেও নাম প্রকাশে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তাহের পাটওয়ারী জানান, এক সময় এ জায়গা আমাদের ছিল। সরকার রাস্তা করেছে আমাদের জায়গায়। বেশি দিন লাগবে না, কাজ শেষে বেড়া তুলে দেওয়া হবে।
রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, এটা সরকারের কোনো তালিকাভুক্ত রাস্তা নয়। এটা আমাদের বাড়ির ব্যক্তিগত জায়গা। তা ছাড়া বেড়া দেওয়া হয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য। পুরাতন ভবনের ইট-সুরকি পড়ে যেন কোনো মানুষ আহত না হয়, সে জন্য সাময়িকভাবে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। দুই-একদিন পর খুলে দেওয়া হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করীম জানান, আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এভাবে সড়ক বন্ধ করে দেওয়াটা দুঃখজনক।