স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) তাজুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান। আমন্ত্রণ জানানোর পরও সাংবাদিকদের ভবনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী সাংবাদিকদের ডেকে পাঠান। সাংবাদিকরা সভাস্থলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওয়াসার এমডির উদ্দেশে বলেন, ‘কেন গণমাধ্যমকর্মীদের এখানে আসতে দেননি। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। আপনি এ ধরনের আচরণ করতে পারেন না।’ এ সময় চুপ থাকেন তাকসিম।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের ওয়াসা ভবনে সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এস এম গোলাম ফারুক, ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এমডির পক্ষে কথা বলতে গেলে সংস্থাটির এক উপসচিবকেও ধমক দেন মন্ত্রী। সাংবাদিকরা তাকসিম এ খানের কাছে তার বিরুদ্ধে ওয়াসার কর্মীদের উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় সংস্থাটির প্রশাসন বিভাগ-১-এর উপসচিব মৌসুমী খানম অনুমতি না নিয়েই এমডির পক্ষ নিয়ে কথা বলতে গেলে মন্ত্রী তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। তিনি ‘ওয়াসা এমডির নামে দুর্নীতির তথ্য সত্য নাও হতে পারে’ মন্তব্য করে এ বিষয়ে কথা বলতে তার কার্যালয়ে যেতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এদিন ওয়াসার সিবিএ নেতা ও শ্রমিকরা ভবনের গেটে জড়ো হন এবং ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সংবলিত বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগ বন্ধ রেখে শ্রমিকদের দিয়ে ওভারটাইম করানো হলেও তার যথাযথ পারিশ্রমিক দিচ্ছে না এমডি।
সকাল ১০টা থেকে বিক্ষোভ করতে থাকা শ্রমিকরা দুপুর পৌনে ২টায় মন্ত্রীর আশ্বাসে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সমস্যার কথা আমি এরই মধ্যে শুনেছি। আপনারা আমার মন্ত্রণালয়ে আসেন। সমস্যাগুলো বলেন। সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
এমডির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো সম্মানিত পদে বসে যদি কেউ অসম্মানিত কাজ করেন, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সময় দিতে হবে।’
এর আগে ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, অনেক দিনের অবজ্ঞা, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নাগরিক সেবা প্রদানকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা উঠে গেছে। এখন আর পেছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। নতুন উদ্যমে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ও দুর্নীতিমুক্ত থেকে নাগরিকদের সেবা দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তাজুল বলেন, ‘আমরা অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। কিন্তু সামনের দিকে ন্যূনতম বরদাশত করা হবে না। যদি কেউ অতীতের সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন না করেন, তাহলে পরিণাম ভালো হবে না। অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের অগ্রগতি অনেক বাধাগ্রস্ত হয়েছে, আর নয়। অফিসের বড় সাহেব যদি ঠিক হয়, তাহলে ছোট সাহেবরা আর বেঠিক থাকতে পারেন না।’
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ চমকপ্রদ হবে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃশ্যমান কিছু আমরা এই পাঁচ বছরে করব। এই শপথ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী এবারের মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছেন।’ জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।