লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু তাহের পাটওয়ারী পৌর শহরের ব্যস্ততম জনতা ব্যাংক সড়ক বন্ধ করে পুরনো ভবন ভাঙার কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে সড়কটি বন্ধ করা হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।
ওই রোডের পাশে ‘পুরাতন ওয়াবদা অফিস’ ভেঙে নতুন মার্কেট তৈরির কাজ করছেন তিনি। আবু তাহের পাটওয়ারী রামগঞ্জ পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারীর ছোট ভাই। এই নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি আমলে নেননি আবু তাহের পাটওয়ারী।
আবু তাহের পাটওয়ারী বলেছেন, ‘একসময় সড়কের জায়গা তাদের ছিল। সরকার সড়ক করেছে সেই জায়গায়। তাই রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা দুই ভাই প্রভাবশালী হওয়ায় দুর্ভোগে পড়লেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।
ওই সড়কে চলাচলকারী আবু তাহের, সঞ্জয় রায়, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন জানান, রামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র জনতা ব্যাংক সড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে বাঁশ ও লোহার রডের বেড়া দেওয়া হয়। এতে তারা ভোগান্তিতে পড়ে। বাধ্য হয়ে পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলা পরিষদ খাল সংলগ্ন স্থানে পুরাতন একটি ভবন ভাঙার কাজ চলছে। ভবনটি রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারীর। ভবন ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বলছেন, ভবন ভাঙার কাজ ও রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে আবু তাহের পাটওয়ারীর নির্দেশে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেছেন, ‘আমরা কাজ করছি। কাজ শেষে আমাদের টাকা দেওয়া হবে, সড়কে বেড়া দিয়ে পুরনো ভবন ভাঙার বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।’
তানভীর হোসেন নামে জনতা ব্যাংকের এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, ‘এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। অথচ ব্যক্তি স্বার্থে এভাবে সড়কে বেড়া দিয়ে পুরনো ভবন ভাঙার কাজ হতাশাজনক। একটি ব্যস্ততম সড়ক এভাবে বন্ধ করে মালিকপক্ষ কীভাবে ভবন ভাঙার কাজ করছেন তা বোধগম্য নয়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক ব্যবসায়ী জানান, সড়কে বেড়া দিয়ে কাজ চালানোর কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু তাহের পাটওয়ারী বলেন, একসময় এ জায়গা আমাদের ছিল। সরকার রাস্তা করেছে আমাদের জায়গায়। বেশিদিন লাগবে না, কাজ শেষে বেড়া তুলে দেওয়া হবে।’
রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, ‘এটা সরকারের কোনো তালিকাভুক্ত রাস্তা নয়। এটা আমাদের বাড়ির ব্যক্তিগত জায়গা। তাছাড়া বেড়া দেওয়া হয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য। পুরনো ভবনের ইটসুরকি পড়ে যেন কোনো মানুষ আহত না হয়, সে জন্যই সাময়িকভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। দুই-একদিন পর খুলে দেওয়া হবে।’
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করীম বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এভাবে সড়ক বন্ধ করে দেওয়াটা দুঃখজনক।’