পৃথক ঘটনায় ট্রেনে কেটে সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই ছাত্র নিহত

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার কাছে রেললাইন থেকে এক সাব-রেজিস্ট্রারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন ওই সরকারি কর্মকর্তা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজবাড়ীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে দুই স্কুলছাত্র।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর আশকোনা ও কাওলার মধ্যবর্তী রেললাইন থেকে মাহবুব আলম (৪৮) নামে সাব-রেজিস্ট্রারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এই কর্মকর্তা। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

বিমানবন্দর থানার ওসি মো. নুরে আজম মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটি আত্মহত্যা না হত্যা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাওলা ও আশকোনার মধ্যবর্তী রেললাইনে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন মাহবুব। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কায়তলা গ্রামের এম এ মান্নানের ছেলে মাহবুব। স্ত্রী শিউলি আক্তার, দুই মেয়ে সিফা (১৪) ও ইউশাকে (৬) নিয়ে মিরপুর শেওড়াপাড়ার ৬০৬ নম্বর বাসায় থাকতেন তিনি। নিহতের ছোট ভাই আবু জাফর প্রদীপ বলেন, ‘ঘটনার উপসর্গ দেখে আমরা মনে করছি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েননি, এমনকি আত্মহত্যাও করেননি। সেরকম কিছু হলে আমরা আগে থেকেই কিছুটা টের পেতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস শেষে মাহবুব ভাই আর বাসায় ফেরেননি। রাত ৯টার পর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে লোক মারফত তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ স্থানের সন্ধান করা হয়। সেখানে তার অবস্থান বিমানবন্দর এলাকাতে দেখানো হয়। ওই রাতেই বিমানবন্দর থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশ আগে কিছুটা তদন্ত করে পরে জিডি নেবে বলে জানায়। শুক্রবার সকালে মাহবুব ভাইয়ের মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে পুলিশ জানায়, আশকোনা রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে তিনি মারা গেছেন।’

নিহতের ভাড়ায় চড়া গাড়ির চালক হাসানুজ্জামান স্বপন বলেন, ‘আমি রেন্টে গাড়ি চালাই। মাহবুব স্যার প্রতিদিনই আমার গাড়ি ব্যবহার করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুরের বাসা থেকে ডেমরার অফিসে নিয়ে যাই। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অফিস থেকে বের হন তিনি। গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলাম এমন সময় স্যারের মোবাইলে অনেক ফোন আসে। বিজয় সরণি এলাকায় এলে স্যার বলেন, বিমানবন্দর চলো, ওখানে আমার একটা কাজ আছে। রাত পৌনে ৯টায় আমি স্যারকে নিয়ে বিমানবন্দর বাস স্টপেজের ফ্লাইওভারের নিচে নামিয়ে দিই। এরপর তিনি বাসায় ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে আমাকে ভাড়ার টাকা দিয়ে বিদায় দেন।’

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ছাত্র নিহত হয়েছে। এরা হলো রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অন্তু সরকার (১৬) ও দশম শ্রেণিপড়–য়া সাকিব (১৬)। গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে নিহত সাকিবের বড় ভাই কালুখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র হাসিবকে (১৭)।

সাকিব ও হাসিব উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে। নিহত অন্তু ওই এলাকায় দুলাভাইয়ের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করত। সে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রফুল্ল সরকারের ছেলে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন কালুখালী স্টেশন ছাড়ার পর গঙ্গানন্দপুর রেলগেটে রেললাইনের ওপর থাকা ছাত্রদের ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্তুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাভারের আমিনবাজারে তার মৃত্যু হয়।