ডাকসুর ভোটকেন্দ্র নিয়ে সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু ) নির্বাচনে নিরাপত্তাহীনতা ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাড়া সব ছাত্রসংগঠন ভোটকেন্দ্র হলে হলে না বসিয়ে অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে বসানোর যে দাবি তুলেছে, সে বিষয়ে সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর গত ২১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল সব ছাত্রসংগঠনকে বৈঠকে ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও জাসদের সহযোগী দুই ছাত্রসংগঠন ছাড়া বাকি ১৩টি ছাত্রসংগঠন হলে ভোটকেন্দ্র বসানো নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তারা একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সেগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সেদিন সবার কথা শুনেছি। এখনো আলাপ-আলোচনা চলছে। সিন্ডিকেট সভায় ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’      

এবারের ডাকসু নির্বাচনে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও বললেন, ‘বিষয়টি এখনো নির্ধারিত হয়নি। সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হবে।’

স্বাধীনতার পর ছয়বার ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলগুলোতেই ছিল।  ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও হলেই ভোটকেন্দ্র বসানোর কথা বলা হয়েছে। এর প্রথম খণ্ডের ৮-এর ৫ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সভাপতি (উপাচার্য) নির্বাচনের সময় এবং তারিখ ধার্য করে তা অবহিত করবেন এবং একজন প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলি আবাসিক হল আছে ততজন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন। প্রত্যেক আবাসিক হলে একটি করে ভোটকেন্দ্র থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট হলের সদস্যবৃন্দ কেবল সেই ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন।’

১৯৯০ সালের ৬ জুন সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আমান উল্লাহ আমান ও খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বাধীন বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের প্যানেল নির্বাচিত হয়। ওই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো অভিযোগ ছিল না; বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে নির্বাচন-পরবর্তী কোনো সহিংসতার খবরও পাওয়া যায়নি।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো ইতিহাস নেই। কিন্তু সামনে কী হতে পারে তা বলা যায় না।’

হলে ভোটকেন্দ্র বসানোর আপত্তির পেছনে যুক্তি তুলে ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৯৯০ সালে ক্যাম্পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান ছিল; সবার বিচরণ ছিল। কিন্তু গত ১০ বছর ক্যাম্পাসে বিরোধী ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসছাড়া; হলগুলো একচেটিয়া ছাত্রলীগের দখলে। বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রলীগ একত্র হয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পুলিশে দিয়েছে। এই অবস্থায় এই পরিবেশে যদি ভোট হয়, তাহলে অন্য ছাত্ররা হলের ভেতর ভোট দিতে যাবে না। তারা আতঙ্কিত থাকবে। তাই আমাদের দাবি ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে অ্যাকাডেমিক ভবনে হোক।’

প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন সিপিবির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হলের পরিবেশের সঙ্গে হলের বাইরে যারা থাকে তারা অভ্যস্ত নয়। তাদের ভয়ভীতি দেখানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারা নিরুৎসাহিত হতে পারে। তা ছাড়া হলের ভেতরে আছে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য। তাই, আমরা দাবি জানিয়েছি, হলের ভেতর যেন ভোটকেন্দ্র না বসানো হয়।’

অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র বসানোর দাবিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এটা প্রতিষ্ঠিত বিষয় যে হলে ভোটকেন্দ্র হবে। অন্য সংগঠনগুলোর কর্মীর অভাব রয়েছে, তাই হলে তাদের অবস্থান নেই। কিন্তু ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে।’