চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। কৃষকদের অভাবের সুযোগে এসব মাটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে ভিটেবাড়িসহ ইটভাটায়। এতে মাটির উর্বরতা কমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, একবার মাটি কাটা জমিতে আগের মতো উর্বরতা ফিরে আসতে কমপক্ষে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। আর এভাবে মাটি বিক্রি অব্যাহত থাকলে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষকদের মাটি বিক্রি না করার বিষয়ে সচেতন করার পরও তারা কথা শুনছেন না। নগদ টাকার আশায় কৃষকরা জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সাময়িক তাদের অভাব দূর হলেও দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হবে।
এদিকে জমির মাটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট। দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ চলে আসছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কগুলো বেহাল হচ্ছে। যার ফলে যোগাযোগব্যবস্থাও চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বারশত গ্রামের বিলে দুটি জমিতে তিন ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এক্সেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তুলছেন শ্রমিকরা। এসব মাটি বসতভিটা ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত খোরশেদ আলম। একইভাবে বটতলী বাঘমারার চরেও খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আর এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পরীর বিলের দুটি ইটভাটায়।
কর্ণফুলী ব্রিকসের ব্যবস্থাপক সিরাজুল হক বলেন, ৩৫ সদস্যের একটি চক্র দুটি ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করে থাকেন। তারা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় তাদের ছাড়া মাটি নেওয়া যায় না। গাড়িপ্রতি মাটির দাম ৮৫০ টাকা।
জানা যায়, উপজেলার বরুমচড়া, বটতলী, জুঁইদী, রায়পুর, হাইলধর, বারখাইন ও বারশত ইউনিয়নের ফসলি জমির উপরিভাগ এক থেকে দুই ফুট গভীর করে কাটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান গভীর করে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। খননযন্ত্র দিয়ে এভাবে মাটি খননের ফলে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। আর এসব কাজে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করছে স্থানীয় কয়েকটি চক্র। জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কেনা, প্রশাসনকে হাত করাসহ ইটভাটায় মাটি পৌঁছানোর দায়িত্ব এসব চক্রের। বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কৃষিজমির মাটির উপরিভাগের ছয় ইঞ্চি থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে। এই মাটি কেটে নেওয়া হলে জমি যেমন তার উর্বরতা হারায়, ফসল উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈ দেশ রূপান্তরকে বলেন, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।