আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে তার বাইরে কেউ নির্বাচন করতে চাইলে তার ব্যাপারে নমনীয় থাকবে ক্ষমতাসীন দল। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে চায়, চায় সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে। বিএনপি অংশ না নিলেও স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাপারে থাকা বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের অন্য কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, নির্বাচনে বিএনপির অনুপস্থিতি যাতে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপারে সদয় মনোভাব দেখানো হবে। বিএনপির কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে সে সুযোগও থাকবে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে বেশি দলের অংশগ্রহণ দেখাতে শরিক দলগুলো যাতে সব এলাকায় প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা রাখে সে ব্যাপারেও আওয়ামী লীগ নমনীয় থাকবে। শরিক দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে না এলেও জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দল আসবে। সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীও রাখা হবে; যাতে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য বলেন, উপজেলা নির্বাচন নৌকা প্রতীকের বাইরেও দলের মধ্য থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী থাকতে পারে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ নাও করতে পারে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, প্রার্থী যত বেশি থাকবে নির্বাচনের সৌন্দর্য তত বাড়বে। আওয়ামী লীগের অন্য এক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল শনিবার সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংসদীয় বোর্ডের সভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাপারে কঠোর কোনো মনোভাব দেখাননি। এ নিয়ে আলোচনা উঠলে শেখ হাসিনা বলেন, দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়? নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে যা করার প্রয়োজন তাই করতে হবে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। ওই নেতার ধারণা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাপারে শেখ হাসিনাও নমনীয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে কোনো দল অংশ না নিলে কীভাবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তিনি বলেন, বিএনপি না এলেও নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। প্রায় একই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, বিএনপি এখন আর সে ধরনের সংগঠন নয়। অন্য অনেক দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে।