রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলা

এমপির বিরুদ্ধে আসামিদের প্রশ্রয়ের অভিযোগ ভাইয়ের

রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার আসামিদের অধিকাংশই কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের ছত্রছায়ায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার ভাই সোহেল সরওয়ার কাজল। গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় স্থানীয় একটি মোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে কাজল বলেন, ‘২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে যখন নারকীয় হামলা হয় সে সময় আমি এলাকার ছাত্রলীগ নেতা এবং স্থানীয় জনগণকে নিয়ে লড়াই করেছি। এ নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে; তদন্তে একাধিক আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এসব মামলার অধিকাংশ চিহ্নিত আসামিরা এখন সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের ছত্রছায়ায়।’ ফেইসবুকে এক যুবকের পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩৪টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। পরের দিন আগুন দেওয়া হয় উখিয়া ও টেকনাফের আরও সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও হিন্দু মন্দিরে। এ ঘটনায় ১৯টি মামলার মধ্যে আপসে একটির নিষ্পত্তি হলেও বাকি একটিরও বিচার শেষ হয়নি।

রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজল অভিযোগ করে বলেন, ‘সাইমুম সরওয়ার কমল সরকারদলীয় একজন সাংসদ হয়েও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। গত ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকার প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন। বর্তমানে ওই জামায়াত-বিএনপির চক্রান্তকারীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ ভেঙে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিআর-কাবিখা লুটপাট আমি করিনি। আমরা যারা সত্যিকারের আওয়ামী লীগ করি, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী তারা কোনোদিন অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নই। এলাকার জনতাই আমাদের শক্তি এবং প্রেরণা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হানিফ বিন নজির, সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম মণ্ডল, অর্থ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুছ রানা, নুরুল হক চৌধুরী, জুনাইদ বিপ্লব, সহপ্রচার সম্পাদক সন্তোষ বড়ুয়া, তারেক সরওয়ারসহ শতাধিক নেতাকর্মী।