চট্টগ্রাম নগরের আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য অতিরিক্ত চারটি র্যাম্প নির্মাণের কথা থাকলেও দুটি নির্মাণের পর ‘সমীক্ষা’র অজুহাত দেখিয়ে সরে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ২০১৬ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গঠিত ‘নকশা পর্যালোচনা কমিটি’র সুপারিশে র্যাম্পগুলো নির্মাণে ২৩৪ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছিল। বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকা ব্যয়ের পর বাকি র্যাম্প নির্মাণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সিডিএ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ফ্লাইওভারের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারটি নগরীর মুরাদপুর থেকে শুরু হয়ে লালখান বাজারে এসে শেষ হয়েছে। মূল নকশার বাইরে জিইসি মোড় এলাকায় চারটি র্যাম্পের মধ্যে সানমার ওশান সিটির সামনে থেকে বায়েজিদ বোস্তামীমুখী র্যাম্পের কাজ শেষ করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। লালখান বাজার থেকে জিইসি মোড় ও জাকির হোসেন সড়কমুখী গাড়িগুলো নামার জন্য জিইসি কনভেনশন সেন্টারের সামনে একটি এবং জিইসি মোড় থেকে লালখান বাজারের দিকে যাওয়ার জন্য পেনিনসুলা হোটেলের একটু সামনে আরেকটি র্যাম্প নির্মাণের কথা থাকলেও সেটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সম্প্রতি লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এখন জিইসি থেকে র্যাম্প নির্মিত হলে সেটি ওয়াসা মোড়ের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই র্যাম্প দুটির প্রয়োজন হবে না। কেননা এর কাছেই লালখান বাজার। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে র্যাম্প দুটির প্রয়োজন আছে কি নেই তা সমীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।’
সিডিএ জানায়, ২০১০ সালের ১ জুন একনেক সভায় প্রায় ১৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে যানজট নিরসনে সিডিএর নেওয়া নগরের মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট ও জিইসি জংশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরুর আগেই প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায় ৩১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত চার লেনবিশিষ্ট ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪৬২ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। নির্মাণকাজ শুরুর পর ফ্লাইওভারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটি যান চলাচলে কার্যকর করতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তৎকালীন উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে ফ্লাইওভারটির ছয় স্থানে লুপ ও র্যাম্প রাখার সুপারিশ করে।
সুপারিশ অনুযায়ী গণপূর্তমন্ত্রী ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে নির্দেশনা দেন। এরপর ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর একটি লুপ ও পাঁচটি র্যাম্প নির্মাণের জন্য ২৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯৬ কোটি টাকা সংশোধিত ব্যয় একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও লুপ ও র্যাম্প নির্মাণ ছাড়াই ২০১৭ সালের ১৬ জুন ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরে বায়েজিদমুখী একটি লুপ ও একটি র্যাম্প এবং সানমার ওশান সিটির সামনে একটি র্যাম্প ও বিপরীতে নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি র্যাম্প নির্মাণ করা হয়। বাকি দুটি র্যাম্প এখনো নির্মাণ না করায় জিইসি মোড় এলাকায় যানজট দৃশ্যমান।
এ বিষয়ে চুয়েটের সাবেক উপাচার্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সুপারিশ অনুযায়ী জিইসিতে দুটি র্যাম্প নির্মিত না হলে ফ্লাইওভারটি পূর্ণাঙ্গভাবে যান চলাচলে সুবিধা পাবে না। সবকিছু পর্যালোচনা করেই র্যাম্প নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। বর্তমানে একে খান থেকে জিইসিমুখী গাড়িগুলো ফ্লাইওভারের সুবিধা পাচ্ছে না। যদিও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কথা বলছে সিডিএ। কিন্তু আজকের দিনের কথা চিন্তা করলে তো হবে না। পরবর্তী প্রজন্মের কথা চিন্তা করতে হবে। আগামী ২০ বছর পর যেমনি জনসংখ্যা বাড়বে, তেমন যানবাহনও বাড়বে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলেও ফ্লাইওভারে র্যাম্প দুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।’