বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, প্রহসনের সরকারকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে চা-চক্রের আয়োজন করেছেন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি গণভবনে ওই আমন্ত্রণের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়। মঈন খান বলেন, ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের লোকজনও জানে। তাই সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কীভাবে তাদের প্রহসনের সরকারকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়। নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই চা-চক্রের আয়োজন দেশের প্রতিটি মানুষ এমনটাই মনে করে।
সারা দেশে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো নির্বাচন হয়নি বাংলাদেশে। এভাবে কোনো দেশে নির্বাচন হতে পারে না। মঈন খান বলেন, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি সিট পেয়েছিল। ২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে ২৯৩ সিট নিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ’৭২-৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুঃশাসন দেখেনি। এবার তারাও দেখেছে।
নতুন সরকারের সমালোচনা করে সাবেক মন্ত্রী মঈন খান বলেন, সরকারের বয়স চার সপ্তাহ। সংসদ এখনো বসেনি। একটিমাত্র মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কীভাবে হলো, কারা নিলো, কোন দায়িত্বে নিলো? উত্তর হচ্ছে মেগা প্রজেক্ট, মেগা দুর্নীতি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলে বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। ক্যান্টনমেন্টে জন্ম হলেও শহীদ জিয়া একদলীয় বাকশাল থেকে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি বিএনপি তার জন্মবার্ষিকী পালন করলেও গণমাধ্যমে তা যথাযথভাবে আসেনি। কারণ সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে।
আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলমগীর হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্মৃতি সংসদের নেতা শামীম তালুকদার, আলমগীর হোসেন, শাহিন খন্দকার, রেজাউল করীম রেজা প্রমুখ।