গ্রামীণফোনের আয়ের প্রধান উৎস ভয়েস কল হলেও প্রবৃদ্ধি বেশি হচ্ছে ডাটা থেকে। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ডাটা থেকে আয় বাড়ছে। বর্তমানে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের অর্ধেকের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। এতে করে ইন্টারনেট থেকে ২০১৮ সালে আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ। একই সময়ে ভয়েস কল থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। গতকাল ২০১৮ সালের লভ্যাংশ ঘোষণার এক সভায় এ তথ্য জানায় দেশের শীর্ষ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড।
গ্রামীণফোনের ২০১৮ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে কোম্পানির আয় হয়েছে ১৩ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এ সময় কোম্পানির আয় বাড়লেও ব্যয় কমেছে। ২০১৭ সালে কোম্পানির রেভিনিউর বিপরীতে ব্যয় ছিল ৭ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালে ৭ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ব্যয় কমে আসায় ২০১৮ সালে গ্রামীণফোনের পরিচালন মুনাফা হয় ৫ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
গতকাল আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন জানায়, চতুর্থ প্রান্তিকে কোম্পানির আয় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৮ সালে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছে ৩ হাজার ৫১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি।
২০১৮ সালে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২০ টাকা ৩১ পয়সা। ২০১৮ সালের হিসাব বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে গতকাল শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ২৮০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এ কোম্পানির প্রতি শেয়ারে শেয়ারহোল্ডাররা ২৮ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। আয়ের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। আয়ের অতিরিক্ত লভ্যাংশের অর্থ পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে দেবে গ্রামীণফোন। লভ্যাংশ ঘোষণায় রেকর্ড তারিখ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত এ সভায় গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, ‘২০১৮ বাজারে খুবই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ছিল। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক ফলাফল এনে দিয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমরা ফোর-জি চালু করেছিলাম এবং কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা নির্দেশাবলির কারণে এ বছর নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও আমাদের ভয়েস ও ডাটা খাতে প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক ছিল। ভবিষ্যতে আমাদের কর্মপদ্ধতিকে আরও দক্ষ ও দ্রুতগতি সম্পন্ন করে, প্রমাণিত কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে কোম্পানিকে সম্মানিত গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডারদের ও এমপ্লয়িদের মূল্যায়ন করতে পারব বলে আশা করি।’
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন জানায়, ২০১৮ সালে ৭৪ লাখ নতুন গ্রাহক গ্রামীণফোনে যোগ দিয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় গ্রামীণফোনে যুক্ত হয়েছে ৫৯ লাখ নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক; যার ফলে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে মোট গ্রাহকের ৫১ শতাংশ।
গ্রামীণফোনের সিএফও কার্ল এরিক ব্রোতেন বলেন, ‘গ্রামীণফোন দক্ষতা এবং শক্তিশালী মুনাফা প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আরেকটি বছর সম্পন্ন করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে গ্রাহক এবং তাদের সেবা ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে। ২০১৮ সালে আমরা সেবার মূল্য নির্ধারণ বিশেষ করে ইন্টারনেটের মূল্য ও ভয়েস ট্যারিফ নির্ধারণে বেশ প্রতিযোগিতা সম্মুখীন হয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বাজারের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সহজীকরণ উদ্যোগে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ায় এই কোম্পানি আগামীতেও লাভজনক প্রবৃদ্ধি এনে দিতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি জানান, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য পরিচালকরা শেয়ারপ্রতি ২৮ টাকা চূড়ান্ত লভ্যাংশ সুপারিশ করেছেন।
গ্রামীণফোনের সিইও বলেন, ‘২০১৯ সালে বাস্তবায়ন হতে পারে এমন বেশ কিছু নীতিনির্ধারণ বিষয় এখন আলোচনাধীন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আসন্ন এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) এবং টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সিং এবং সেবার মান সংক্রান্ত বিধিমালা। আমরা মোবাইল শিল্পের সেবাকে আরও উন্নত করতে সরকার ও এই খাতের মধ্যে অর্থপূর্ণ আলোচনার বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতির কথা আবারও উল্লেখ করছি, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।’