প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চা-চক্রের আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন না বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। গত রোববার জোটের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে জোটের নেতারা জানান, রাজনৈতিক আলোচনা ছাড়া শুধু চায়ের আসরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলে তারা গণভবনে যাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার চিঠি দিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন সেই দলের নেতাদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারি গণভবনে চা-চক্রের আমন্ত্রণ জানান। বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক আট দলের ১৬ জন নেতাও পেয়েছেন এই আমন্ত্রণ।
এর আগে বিএনপিপ্রধান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারাও এ চা-চক্রে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি (সিপিবি) মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘তিনি তো ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ দেননি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডেকেছেন। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আলাপ হলে আমরা যেতাম, শুধু চা-চক্রে যাওয়ার মতো দেশের অবস্থা নেই। রাজনৈতিক আলোচনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এ বিষয়ে সিপিবি সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ভুয়া ভোট হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এই পটভূমিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। এ কারণেই তার ডাকে যাচ্ছি না।’
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও চা-চক্রে আমন্ত্রিত জোটের নেতারা হলেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো; বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ; বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান; বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ফখরুদ্দীন কবীর আতিক; গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক ফিরোজ আহমেদ; ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার; গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোমিনুর রহমান বিশাল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক হামিদুল হক।