নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে আলমগীর হোসেন (৩০) নামে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আলমগীরের পোশাক তৈরির একটি দোকান আছে, এর পাশাপাশি তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করতেন বলে জানান তার এক স্বজন। এদিকে গতকাল সোমবার সকালে শহরের ডিআইটি কলোনি থেকে সিয়াম (১৭) নামে এক পোশাক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   

আলমগীর দেওভোগ মাদ্রাসা এলাকার নুরু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মুন্সীগঞ্জের দশলং এলাকার লাল মিয়ার ছেলে তিনি।

তার ভাতিজা শাকিল দেশ রূপান্তরকে জানান, দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার একটি চায়ের দোকানে যাচ্ছিলেন আলমগীর। পথে তিন-চারজন যুবক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে শাকিল তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সারোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘আলমগীরের পেটে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে আলমগীরের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি, আলমগীরের  বন্ধুবান্ধব জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’    

তবে আলমগীরের ভাতিজা শাকিল বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ডেভিড ও তার কয়েকজন সহযোগীকে পুলিশে ধরিয়ে দেন আলমগীর। এর প্রতিশোধ নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

শহরের ডিআইটি কলোনি থেকে পোশাকশ্রমিক সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানাপুলিশ। তিনি ফতুল্লার দেওভোগ লিচুবাগান এলাকার মসজিদ গলির সোহেল মিয়ার ছেলে। শহরের উকিলপাড়ার আজিজুর রহমানের পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সিয়াম।

পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গত রবিবার রাত ৯টায় কারখানা থেকে বের হন সিয়াম। কিন্তু রাতে বাসায় না ফেরায় সকালে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে কলোনির পেছনে পড়ে থাকা লাশ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

ওসি কামরুল বলেন, ‘মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’