‘অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য’ পুলিশি হয়রানির মধ্যে পড়ে মাকে হারিয়ে বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকার বাসিন্দা তুহিন হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, তাকে হয়রানির জন্য এর মধ্যে প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করতে চান না। কর্র্তৃপক্ষের বিচারের অপেক্ষায় থাকবেন তিনি।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নই তবুও আমাকে বিনা অপরাধে পুলিশ টাকার জন্য ধরে নিয়ে গেছে। আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আমার মা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। পুলিশ কি আমার মাকে ফেরত দিতে পারবে। আমি সাইপ্রাস যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে রেখেছি। এ সময় আমার মা মারা গেলেন। আমি মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ আমাকে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।’
তুহিনের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাব্বির ও এএসআই রুহুল একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে তুলে স্থানীয় একটি হোটেলে নিয়ে আটকে রেখে একলাখ টাকা দাবি করে। ছেলেকে আটকের খবর শুনে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন; হাসপাতালে নেওয়ার পর পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাব্বির ও রুহুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার চাচাতো ভাই কাঞ্চন পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শনিবার রাতে আমি ও তুহিন স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসেছিলাম। কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাব্বির ও এএসআই রুহুল মোটরসাইকেলে করে সাদা পোশাকে সেখানে আসে। তারা তুহিনকে টেনে তুলে নিয়ে গিয়ে জমজম হোটেলে আটকে রাখে। তারা বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে তুহিনকে চাপ দেয়। খবর পেয়ে আমিসহ অন্যরা সেখানে যাই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। সে একেবারেই নিরপরাধ ছেলে।’
তিনি বলেন, তুহিনের বাবা মারা গেছে আগেই। তার মতো সহজ-সরল ছেলেকে এভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া কিংবা পুলিশ সাদা পোশাকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে সহ্য করতে না পেরেই তুহিনের মা রেখা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। তারপরও তুহিনকে ছেড়ে দেওয়ার সময় তারা তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ঘটনার কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছি। এ ব্যাপারে আমার কাছে তুহিন কিংবা তার পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনার তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’