হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার। উন্নত চিকিৎসার্থে বিদেশে নিতে সরকারের কাছে বাবুনগরীর পাসপোর্ট ফেরত চাওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ভগ্নিপতি হেফাজত নেতা মাওলানা মো. ইদ্রিস।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জুনায়েদ বাবুনগরী ২০১৩ সালে হেফাজতের অবরোধ পরবর্তী দীর্ঘদিন কারা নির্যাতন ভোগ করেন। কারাগারে তাকে উনিশ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডের পূর্বে তিনি তেমন অসুস্থ ছিলেন না কিন্তু রিমান্ডের পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরেন। উন্নত চিকিৎসা নিতে না পারার কারণে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার খিদমাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
ঢাকার এ্যাপোলো, বারডেম এবং খিদমাহ হসপিটালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, প্রফেসরগণের সমন্বয়ে বোর্ড বসিয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেছেন, তার শারীরিক সমস্যা অবনতির দিকে। কিডনি, হার্ট, লিভার, প্রেশার, ডায়াবেটিস, পায়ের ইনফেকশনসহ সবগুলো রোগ একই সঙ্গে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। তাই চিকিৎসায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা বা উন্নত কোন চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর নেওয়া অতীব জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে মুমূর্ষু অবস্থায় কারামুক্তির পর ডাক্তারদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট নবায়ন করতে দিলে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ‘পাসপোর্ট রেডি আছে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না থাকায় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না’।
এক প্রশ্নের জবাবে হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মীর ইদ্রিস বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাবুনগরীর পাসপোর্ট ফেরত না দিলে যে কোন কর্মসূচি আসতে পারে; সেটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ছোটভাই মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ শোয়েব বাবুনগরী, হেফাজত নেতা মুফতি মুহাম্মদ রহিমুল্লাহ, মাওলানা মাহমুদ শাহ, মাওলানা সলিম উদ্দীন, মাওলানা জুনাইদ ইমামনগরী, মাওলানা আফাজুর রহমান, হাফেজ ইলিয়াছ প্রমুখ।