খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় ‘দল বেঁধে’ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী। গত সোমবার রাতে ওই থানার আলিম সিটি গেটসংলগ্ন কলাবাগান এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ভবনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কিশোরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সাগরের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুরের ড্রাই আইস ফ্যাক্টরি এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ হয়েছে। গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার ওই কিশোরীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো : সুজন, আকাশ, আল-আমিন, ফজলু ও বাবু। অন্য আসামি মোস্তফা ওরফে মোস্ত এখনো পলাতক।
খুলনার ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েটি নগরীর বাসিন্দা। গত সোমবার আলিম গেট কলাবাগান এলাকার সাগর, তার বন্ধু ও একই এলাকার শফিকুর রহমান শফিক ও বেল্লাল প্রলোভন দেখিয়ে আলিম সিটি গেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে তারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। ওই সময় মেয়েটির চিৎকারে পাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তিনজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ছাত্রীর ভাই জানান, তার বোন গত সোমবার সকালে পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে সকাল সোয়া ৯টায় সাগর তাকে কৌশলে মোটরসাইকেলে তার ভাবির বাড়ি ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে দুপুরের খাবারের পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে সন্ধ্যার দিকে আলিম সিটি গেটের রেললাইনে মিজানের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনের মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথে সাগর নামের এক যুবক তাকে কিছু কেনাকাটা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সারা দিন মোটরসাইকেলে ঘুরিয়ে সন্ধ্যায় বন্ধু শফিক ও বেল্লালকে নিয়ে ধর্ষণ করে। বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, রাতেই মেয়েটির বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মেয়েটির স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ কিসমত আলী বলেন, ‘সোমবার মেয়েটি স্কুলে যায়নি। সাগর মেয়েটিকে জোর করে তুলে নিয়ে বিল্লাল ও সফিকসহ গণধর্ষণ করে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার জানান, পূর্বসম্পর্কের জেরে গত সোমবার বিকেলে আসামি সুজন সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর এলাকার ওই মেয়েটিকে শহরের ড্রাই আইস ফ্যাক্টরি এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করে।
মেয়েটির বাবা একজন দিনমজুর। এ ঘটনার পর তার আত্মীয়স্বজন দুর্বৃত্তদের ভয়ে মুখ খুলছেন না।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত এক সেবিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাসপাতালে ভর্তির ছয় ঘণ্টা আগে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।