যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল আলমকে ১২ ফেব্রুয়ারি হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এদিন তিনি আদালতে নিজে থেকে হাজির না হলে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার হাজির না হওয়ায় বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়।
এক গ্রাহকের রাখা এমটিডিআরের অর্থ (মাসিক মুনাফা নেওয়ার স্থায়ী সঞ্চয়) দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ না মানায় শফিকুল আলমকে তলব করা হয়েছিল।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শুভ্রজিত ব্যানার্জি। যমুনা ব্যাংকের এমডির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাবিবুল ইসলাম ভূইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।
আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যদি শফিকুল আলম হাজির না হন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে আনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’ আইনজীবীরা জানান, তালেবুর নূর নামের এক ব্যবসায়ী ২০০৫ সালে যমুনা ব্যাংকের রাজধানীর নওয়াবপুর শাখায় ৫ বছরের জন্য ৫১ লাখ টাকার একটি মাসিক মুনাফা নেওয়ার স্থায়ী সঞ্চয় (এমটিডিআর) হিসাব খোলেন। তালেবুর নূরের সঙ্গে এআইএম হাসানুল মুজিব নামের আরেক ব্যক্তি যৌথভাবে ২০০৬ সালে তুরস্ক থেকে দুই হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় তালেবুর নুর দেনাদার হন। একপর্যায়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে যমুনা ব্যাংকের ওই এমটিডিআরের ৫১ লাখ টাকার মালিকানা তিনি হাসানুল মুজিবকে দেন। ২০১১ সালে হাসানুল মুজিব টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল মালিককে হাজির করতে হবে অথবা বিষয়টি যমুনা ব্যাংক নিষ্পত্তি করবে। এরপর টাকার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন হাসানুল মুজিব। ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে রিট আবেদনকারীকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই রায় স্থগিত চেয়ে যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এরপর ওই টাকা চেয়ে যমুনা ব্যাংকে লিগ্যাল নোটিস পাঠালেও টাকা না পেয়ে গত বছরের ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা ও যমুনা ব্যাংকের এমডিকে তলবের আবেদন করেন তিনি।