ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ট্রাম্পের অবরোধ

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ওপর অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভ মুচিন এই অবরোধ জারির ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। ভেনেজুয়েলার করুণ পরিণতির জন্য দায়ীদের ওপর এই অবরোধ শাস্তি হিসেবে এবং হুয়ান গুইদোকে সাহায্য করবে বলেও তিনি জানান।

দেশটির নতুন সংকটাবস্থায় এই অবরোধ গোটা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অবরোধে পিডিভিএসএর ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেলের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া তেল কোম্পানিটির অধীনে থাকা সাত বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, ‘আমরা মনে করি ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার মিত্ররা এখন থেকে আর দেশটির জনগণের সম্পদ হরণ করতে পারবে না।’ ভেনেজুয়েলার সংকটে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী প্রয়োগ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এক্ষেত্রে সব সম্ভাবনাকেই মাথায় রেখেছেন।

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমাগত সমালোচনার জবাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। প্রেসিডেন্ট প্যালেসে জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চরমপন্থীদের এই গ্রুপটি হোয়াইট হাউস ভর্তি। এরা অপমান, অসম্মান এবং আগ্রাসী ভঙ্গিতে কথা বলে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প উপযুক্ত নয়।’ মূলত মাদুরোর এমন জবাবের পরই ট্রাম্প এই অবরোধ জারি করেন।

লাতিন আমেরিকার বিশ্লেষক আমির রিচানির মতে, এই অবরোধ মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে করা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ। এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসবে। কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের একটা বিশাল অংশই আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারত। গত বছর দিনে পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করেছে ভেনেজুয়েলা।

২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।