কলা খুব সহজলভ্য ফল। বারো মাস পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর ফল কলায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম,প্রাকৃতিক তেল ও ভিটামিন থাকে। কলার গুণাগুণ জানালেন নাহার সুলতানা
রূপচর্চায়
চুল রুক্ষ হয়ে গেছে তাহলে দুটি ভালো পাকা কলা এবং দুই টেবিল চামচ মধু ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে চুলে ব্রাশের সাহায্যে লাগিয়ে নিন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। একঘণ্টা পরে চুল ঠা ণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করলেই চুল থাকবে ঝলমলে। এই প্যাকটি চুলের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে এবং চুল ঘন করে। চুল পড়া বাড়লে পাকা কলা এবং দুই টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে পুরো মাথায় প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন এবং শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন।
২০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। অলিভ অয়েলের বদলে নারিকেল তেলও ব্যবহার করা যাবে। পাকা কলার সঙ্গে নারকেল দুধ মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
রুক্ষ চুলের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে চুলকে নরম করবে। খুশকি কমাতে অর্ধেকটা পাকা কলা চটকে এর সঙ্গে তিন টেবিল চামচ টক দই ও এক টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস মেশান। মিশ্রণটি চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে লাগান। পুরো চুলে লাগাবেন না। ২০-২৫ পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টকদই চুলকে খুশকিমুক্ত এবং মসৃণ করতে সাহায্য করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে কলা ব্যবহার করে খুব সহজেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা যায়।
কলার খোসা ব্যবহার করে সহজেই মুখের দাগ দূর করা যায়। মধুর সঙ্গে কলার খোসা মিশিয়ে মুখে ভালো করে ঘষলে এই দাগ দূর হয়। সানবান দূর হয়। কলায় রয়েছে ভিটামিন-এ যা মুখের দাগ দূর করে এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন-ই যা ত্বক সতেজ রাখে।
দেহের যন্তে
রূপচর্চার পাশাপাশি প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কলার ট্রিপ্টোফ্যান নামক এক ধরনের প্রোটিন যা মানুষের বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং খুব কম পরিমাণে লবণ যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়াও কলাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। দ্রুত ওজন কমাতে অধিক ক্যালরির খাবারের বিকল্প হিসেবে কলা খাওয়া ভালো। কলা মিষ্টি জাতীয় খাবার হওয়ায় চিনির বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায়। মাঝারি আকৃতির একটি কলায় মাত্র ১০৫ ক্যালরি থাকে। এ ছাড়াও কলাতে রয়েছে ক্রোমিয়াম নামক খনিজ পদার্থ, যা বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে।
দাঁতের হলদেভাব ঠিক করতে পাকা কলার খোসার ভেতরের দিকটা দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁতে ঘষুন। এভাবে এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে দাঁত ঝকঝকে হয়ে যাবে।
পায়ের গোড়ালি ফেটে গেলে কলা থেঁতলে পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে নিন। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, যেন ধীরে ধীরে চামড়ার ভেতর প্রবেশ করতে পারে। সহজেই ফাটা গোড়ালির সমস্যা চলে যাবে।