আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থে ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি ও মনগড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নামিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইয়ের প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত করেন আওয়ামী লীগের এই প্রচার সম্পাদক।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণাসূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ছয় ধাপ অবনমন ঘটেছে। সূচকের ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভালো থেকে খারাপ) বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯ নম্বরে। ১৮০টি দেশের মধ্যে গতবার বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৩ নম্বরে।
হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ত্রুটিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদ্ধতি এবং কিছু মানুষের মনগড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি, এটি সমীচীন নয়।’
গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল নির্বাচন নিয়ে যে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে সেটার সঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের ‘৮০ শতাংশ মিল’।
কোন পদ্ধতিতে টিআই দুর্নীতির ধারণাসূচক তৈরি করেছে তা স্পষ্ট নয় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের দুর্নীতির সূচক নিরূপণের মেথডোলজি কিছু তথাকথিত বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ীর মতামত গ্রহণ করা এবং তাদের বিভিন্ন জায়গায় কিছু কমিটি আছে নানা নামে, সেই সমিতি বা কমিটির মাধ্যমে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা। তাদের মেথডোলজিটাই ত্রুটিপূর্ণ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির সূচক তৈরির পদ্ধতিটির মধ্যেই ট্রান্সপারেন্সি নেই। এটা করে তারা আন্তর্জাতিকভাবে দেশ, দেশের জনগণ এবং সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে মাত্র।’
টিআইবির উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দুদককে জানান এবং সরকারের কাছে উপস্থাপন করুন, সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। দয়া করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এবং বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন না। আপনাদের কাজের পদ্ধতির মধ্যে যে ট্রান্সপারেন্সির অভাব আছে সেটা দূর করুন।’