৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর চকবাজার থানায় তিনটি মামলা দায়েরের পর কাকরাইল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের মহাব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, মুদ্রা পাচারের প্রমাণ পেয়ে ক্রিসেন্ট গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের চার কর্মকর্তাসহ জনতা ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান (মিরা), ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি।
অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অর্থাৎ ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, এই অর্থ পাচারের ঘটনায় জনতা ব্যাংক ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখার কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রধান কার্যালয়ের এফটিডির (এক্সপোর্ট) তৎকালীন জিএম ও ডিজিএম এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের এজিএমও জড়িত ছিলেন।
মামলায় জনতা ব্যাংকের জিএম মো. রেজাউল করিম, সাবেক জিএম মো. জাকির হোসেন (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি) ও ফখরুল আলম (ডিএমডি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক), ডিজিএম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, এ কে এম আসাদুজ্জামান ও মো. ইকবাল, এজিএম মো. আতাউর রহমান সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. খায়রুল আমিন ও মো. মগরেব আলী, প্রিন্সিপাল অফিসার মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মনিরুজ্জামান ও মো. সাইদুজ্জাহানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শেষ সাতজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।