প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সঠিক সময়ে স্কুলে উপস্থিত হন না এবং নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য তাদের প্রবেশ ও বিদ্যালয় ত্যাগের সময় এবং কখন কোন ক্লাস নেবেন তা নির্ধারণ করে গতকাল বুধবার পরিপত্র জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নিয়মের ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা এবং ঢাকার বাইরের সকল শিক্ষককে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত স্কুলে উপস্থিত থাকতে হবে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল মেশিনে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও বিদ্যালয় ত্যাগের সময় রেকর্ড করা হবে জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে সবাইকে উপস্থিত হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর পুরো প্রক্রিয়াটি উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তদারক করবেন বলেও এতে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিনিধিদল দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী শূন্য দেখতে পায় তারা। খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে, শিক্ষকরা ইচ্ছেমতো ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারি-বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অনুসরণ করা হয় না মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাপঞ্জিও (একাডেমিক ক্যালেন্ডার)। এ বিষয়টি আমলে নিয়েই শিক্ষকদের কড়া নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) এ এফ এম মনজুর কাদির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে এ সময়ের আগে কোনো শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করতে পারবেন না। বিষয়টি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনিটরিং করে মাসিক প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষক এ নির্দেশনা অমান্য করেন তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, ডিজিটাল মেশিনে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও বিদ্যালয় ত্যাগের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এজন্য প্রথমে ঢাকার দু-একটি বিদ্যালয়ে পাইলটিং হিসেবে এ মেশিন স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশের সকল বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হবে।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের একই সূচি (লেসন প্ল্যান) প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সূচি অনুযায়ী স্কুলে উপস্থিত হয়ে দেশের প্রতিটি স্কুলে একই সময়ে একই ক্লাস নেবেন শিক্ষকরা।