সৌদি আরব থাকেন আনোয়ার হোসেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিয়ে প্রিয় দেশ ও পরিবারের কাছে ছুটে আসবেন। সব প্রস্তুতি শেষ। শুধু বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু বাড়ি ফেরার ৭ দিন আগে খুন হলেন তিনি। সৌদি আরবে মরুভূমিতে ওই প্রবাসীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়। গত বুধবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে সৌদি আরবের পুলিশ আল জুবাইল শহরের ২০ কিলোমিটার দূরে মরুভূমি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ এ ঘটনায় নারীসহ ৪ ফিলিপাইন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দাশেরহাটি মালিপাড়া গ্রামে। তিনি দুই সন্তানের জনক।
নিহতের বড় ভাই ও চারিগ্রামের ইউপি সদস্য রজ্জব আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘আামার ভাই ২১ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। আগামী মাসের ৬ তারিখে তিনি ছুটিতে বাড়ি আসার কথা। কিন্তু তার আগেই তিনি খুন হলেন।’
রজ্জব আলী জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার (সৌদি সময় ) দিকে সৌদি আরবের আল জুবাইল শহরের নিজ বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন তার ভাই। পরে বুধবার দুপুরে সৌদি আরবের পুলিশ আল জুবাইল শহরের ২০ কিলোমিটার অদূরে মরুভূমি থেকে আনোয়ারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা কামাল বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে কাকির সঙ্গে মোবাইলে তাদের শেষ কথা হয়েছিল। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।’
সৌদি পুলিশ ও আনোয়ারের বন্ধুদের বরাত দিয়ে রজ্জব আলী আরও বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার রুমমেট বাংলাদেশি আবুল ও জহিরুলকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল এক নারীসহ ৪ ফিলিপাইন নাগরিককে আটক করেছে। এর মধ্যে একজনকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করেছে। যার কাছে ভাই ৪০ হাজার রিয়াল পেত। ফিলিপাইন ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছে চাকরির সুবাদে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার রিয়াল পেতেন তিনি। ভাই দেশে চলে আসবেন, তাই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আমার ভাই খুন হয়েছেন বলে ধারণা করছি।