সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কে, প্রশ্ন ভূমিমন্ত্রীর

কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে নবনিযুক্ত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, ‘কোনো প্রভাবশালী নাই। সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কে? প্রভাবশালী বলতে আমি কিছু বুঝি না। মহামান্য আদালতের রায় আমাদের আছে। কর্ণফুলীতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সোমবার থেকে শুরু হবে।’

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সদরঘাটের বিআইডব্লিউ ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড় পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘসময় দিয়েছি। আর কিছু করার নেই। আমরা সবকিছু বিবেচনা করেই কাজ করছি। আমার কাছে অনেক কল এসেছে। রিকোয়েস্টও এসেছে। আমি মনে করি, এখানে রিকোয়েস্ট রাখার কোন সুযোগ নেই।’

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ও আরএস জরিপ মোতাবেক উচ্ছেদ শুরু হবে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড়কে আমরা কয়েকটা জোনে ভাগ করেছি। প্রথম জোনে ২০০ স্থাপনার মতো ভাঙলে ১০ একরের মতো জায়গা পুনরুদ্ধার হবে। এখানে যারা স্থাপনা করেছেন তারা সবই জানেন। জানেন বলেই তারা ২০১৫ সাল থেকে স্থায়ী কোন স্থাপনা এখানে নির্মাণ করেননি। কারণ আমরা বারবার বলেছি যে এখানে কাউকে স্থায়ী স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। সেটা সরকারি হোক আর বেসরকারি হোক। আমরা কোনোটাই ছাড় দেব না।

অবৈধ দখলদার যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রোববার পর্যন্ত সময় আছে সরিয়ে নেওয়ার। সুতরাং এই কাজ চলবে। ধীরে ধীরে আমরা জোন অনুযায়ী ভাগ করে পতেঙ্গা পর্যন্ত উচ্ছেদ করব।’

কর্ণফুলী চট্টগ্রামের সম্পদ উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে হোক, দলমত সবার ঊর্ধ্বে উঠে এটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। কারণ কর্ণফুলী বাঁচলেই চট্টগ্রাম শহর বাঁচবে।’

এ সময় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সকলের সহযোগিতা চান।

ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, উচ্ছেদের দায়িত্ব পাওয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।