অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে কর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তিনি বলেছেন, কর কর্মকর্তারা অনেক সময় স্বেচ্ছাচারভিত্তিক কর চাপান এবং করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন। এটি স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে।
২২ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছেন মসিউর রহমান। তাতে বলা হয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তারা আদায়ে সফল হলে আর্থিকভাবে পুরস্কার পান। ইদানীং দেখা গেছে যে, রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সিজিএ-এর রাজস্ব আদায় ও জমার হিসাবে বড় রকমের পার্থক্য থাকে। রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে বেশি দেখা যায়। নিরীক্ষা হলে এসব অনাকাক্সিক্ষত পার্থক্য কমানো সম্ভব। ‘কর কর্মকর্তা অধিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে তার ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, স্বেচ্ছাক্ষমতা ব্যবহারের ফলে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না’ বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
শিল্প-বাণিজ্য সহায়ক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ দশকের শুরুতে পণ্যের ওপর আরোপ করা রাজস্ব-শুল্ক-কর সংস্কার করা হয়েছিল। তারপর কোনো অর্থবহ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং প্রয়োগের অনিয়ম বা জটিলতার ফলে বহুল বিচ্যুতি ঘটেছে। এসব বিচ্যুতি ও আদায়ের অনিয়ম দূর করলে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
নতুন মূসক (ভ্যাট) আইন নিয়ে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর বাজেটে সরকার ও এফবিসিসিআইএর সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। তখন আইনটির বাস্তবায়ন স্থগিত করা হয়। বিষয়টি সন্তোষজনক ও পরিপূর্ণ মীমাংসা হয়নি। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, শিল্প-বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধি, রাজস্ব আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ সমন্বয়ে কমিটি গঠনে বিবেচনার দরকার হবে।
‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পৌনঃপুনিকতা পরিহার করা দরকার, যার ফলে শিল্প-বাণিজ্য ও ভোক্তা উপকৃত হবে। রাজস্ব কর বাবদ অনাবশ্যক অতিরিক্ত এবং অনিশ্চিত ব্যয় পণ্যের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা হ্রাস করে; উচ্চ শুল্ক-হার দ্বারা প্রতিরক্ষণ এই দুর্বলতা দূর করতে পারে না। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সমান্তরালভাবে মূসক সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে। উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা সংশোধনসমূহ মূল বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে। জরুরি ২/১টি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ অবশ্য তার আগেও নেওয়া যেতে পারে’ ভ্যাট আইন নিয়ে যোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।