ঠাণ্ডা অনুভূতির ভালোবাসা ‘মাফলার’

আমরা ভালোবাসতে ভালোবাসি। ভালোবাসাকে অনুপাতে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ভালোবাসা সব সময় প্রকাশ্যে নয়, হয়ে থাকে অনুভূতিতে। কখনো ভালোবাসার মানুষটিকে অপ্রকাশ্যে ভালো রেখে। ঠিক এমনই এক ভালোবাসার গল্প ফুটে উঠেছে সোহেল আরমানের গল্প ও পরিচালনার ‘মাফলার’ নাটকে।

বাইরের চরম ঠাণ্ডা আবহাওয়া আর নাঈমের (অপূর্ব) ফ্লাইট মিস করার মাধ্যমে গল্পের শুরুটা। তবে নাটকটি শেষ না করা পর্যন্ত বোঝা খানিকটা মুশকিল এই ঠান্ডা আবহাওয়া আর ফ্লাইট মিস না করলে হয়তো অপূর্বর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতো না আরশি (তানজিন তিশা) কন্যার। মফস্বলের একটি দোকানে যাত্রাপথে ঠাণ্ডার কারণে মাফলার কিনতে গিয়েই সন্ধান মেলে মাফলারের কারিগর আরশি কন্যার। আর সেখান থেকেই শুরু ভালোলাগা, অনুভূতি যা একসময় ভালোবাসা।

হস্তশিল্পের কাজে পারদর্শী আরশি নাটকের শুরু থেকে প্রায় শেষ অব্দি অভিনয় করেছে অন্ধত্বের। যা হয়তো শিল্পপতি অপূর্বর প্রাথমিকভাবে আবেগি অনুভূতির কারণ। তবে তা ধীরে ধীরে এক গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। নাটকের অন্যতম একটি চরিত্র নয়নও পরিচয় দিয়েছে ভালোবাসার এক গভীর দৃষ্টান্তের। পরিচালক ভিন্ন একটি দিক থেকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার নির্মম একটি বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমাদের দেশে একটি প্রতিবন্ধী সন্তানের পরিবার কতটা অসহায় তার কিছুটা গল্পকার ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন নাটকটিতে।

আরশি কন্যার অন্ধত্ব ভালো লাগার কথা প্রকাশের ক্ষেত্রে একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় নাঈমের জন্য। নাঈম কাউকে বুঝতে দেয় না সে তার ভালোবাসাটিকে আগলে রাখতে প্রিয় অনুভূতির চোখের আলো ফিরিয়ে আনতে অগোচরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে নাটকটিতে নাঈমের ভালোলাগা কখনোই হয়তো তার কাছে অনুভূতি ছিল না, যা একেবারে শেষে তানজিন তিশা তার চোখের আলো ফিরে পেতে প্রকাশ করেছে। কারণ সে চেয়েছিল চোখের আলো ফিরে পাওয়ার পর অনুভূতির রাজকুমারকে প্রথম দেখতে আর দূর থেকে ভালোবেসে যেতে।

নাটকের গল্পটা যেভাবে সাজানো হয়েছে একদিক থেকে বাস্তবনির্ভর ভালোবাসার গল্প তবে অন্য দিক থেকে নাঈম নামের যে ছেলেটি সে তার ভালোবাসার মানুষটির জন্য পরিবারের কাছে যে অসহনীয় মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছে তার সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটানো ততটা হয়নি। অব্যক্ত অনুভূতি দু’জন ভালোবাসার মানুষের সুন্দর একত্রিত হওয়ার দৃশ্যের মাধ্যমে শেষ হতে পারত। কিন্তু শেষ হয় শিল্পপতি অপূর্বর একটি পছন্দের হস্তশিল্পের কাজ আরশি কন্যা থেকে উপহার পাওয়ার মাধ্যমে। তবে খুব অল্প সময়ে অপূর্বর অন্য সব নাটকের মতো দর্শক মনে বেশ ভালো স্থান করে নিয়েছে ‘মাফলার’।