শ্রমিকদের দেশে ফিরতে উৎসাহ দিচ্ছে সৌদি

বিদেশি শ্রমিকদের নিজ দেশে ফিরতে উৎসাহ দিচ্ছে সৌদি আরব কর্র্তৃপক্ষ। দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে অনেক বিদেশি শ্রমিককেই সৌদি আরব ছাড়তে হচ্ছে বলে গতকাল রবিবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের শুরুর ৯ মাসে ১১ লাখ বিদেশি সৌদি আরব ত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগ। এর আগে ২০১৩ সালে কয়েক হাজার বিদেশি সৌদি ত্যাগ করে।

তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং নিজেদের শ্রমশক্তি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর বাড়তি ফি আরোপ করা ছাড়াও কিছু খাতের শ্রমিকদের কাজের অনুমতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিককে নিজ দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরত আসা অনেক শ্রমিককে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য পড়তে হয়েছে এই সিদ্ধান্তের কারণে। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন। বেসরকারি খাতে সৌদি জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তিনি এই অর্থনীতির স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ওই ক্ষেত্রগুলোতে বিদেশি নাগরিকরা কাজ করছেন। একজন বিদেশি শ্রমিককে তার কাজের বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ দিতে হচ্ছে, নিজের দেশের শ্রমিকদের তার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিতে হবে। এতে দেশটির অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই অর্থনৈতিক অবনমনের শিকার হচ্ছে।

কিন্তু এই বিশাল সংখ্যায় বিদেশি শ্রমিক চলে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভিসা স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম। বিশেষত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চাদপদ অবস্থানে থাকায় দেশটিকে বাধ্য হয়েই ভিসা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থায় ব্যাপক কঠোর হতে হয়। একই সঙ্গে দেশটি বিদেশি বিনিযোগকারীদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর কিছু বিনিয়োগকারী ফিরে যায়।

৩০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা সৌদিদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি যুবরাজের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের তরুণদের মধ্যে ক্রমশ রাজতন্ত্রবিরোধী অসন্তোষ দানা বাঁধছে। এর অন্যতম কারণ, আরব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিক্ষোভ। সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, গত দুই বছরে কর্মসংস্থান সংকট কয়েকগুণ বেড়েছে, যার পরিমাণ ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিয়াদ সরকারকে স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থান প্রকল্প ঘোষণা করতে হয়েছে।