সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

ভুল প্রশ্নের খাতা ভিন্নভাবেই দেখা হবে

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের খাতা ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। গতকাল রবিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওইসব কেন্দ্রে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অনিয়মিতদের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের খাতা ভিন্নভাবেই দেখা হবে, যাতে কোনোভাবেই

তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’ শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগেরবার অকৃতকার্য যারা পরেরবার পরীক্ষা দেয়, তাদের প্রশ্নপত্র তাদের সময়ের সিলেবাসের ভিত্তিতেই করা হয়।  যারা নিয়মিত, তাদের প্রশ্নপত্র হয় নতুন সিলেবাস অনুযায়ী। নিয়মিত ও অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র আলাদাভাবেই যায়। নির্দেশনা থাকে, পরীক্ষার হলে নিয়মিত ও অনিয়মিতরা ভিন্ন জায়গায় বসবে, যাতে সহজে তাদের মাঝে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা যায়। যে কেন্দ্রগুলোতে সমস্যাটা হয়েছে, সেখানে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, এরই মধ্যে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে সকালে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস বন্ধে নানা রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, কঠোর নজরদারি রয়েছে। প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই; তারপরও অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত শনিবার বিভিন্ন জেলায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন বিতরণে ভুল ধরা পড়েছে। ২০১৮ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।  আমাদের নজরদারি যেভাবে চলছিল তা অব্যাহত থাকবে।’ প্রশ্নফাঁস রোধে মিডিয়া ও অভিভাবকদের সহযোগিতাও চান মন্ত্রী। মাদ্রাসা-ই-আলিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শনের সময় সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, দুই সচিব, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।